শনিবারের ভয়াবহ আগুনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় ঢাকার আন্তর্জাতিক হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর। সেই ঘটনায় এবার এল এক বিস্ফোরক তথ্য। রূপপুরে বাংলাদেশ একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছে। এর জন্য তারা মস্কো থেকে এনেছিল ১৮টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। শনিবারের ভয়াবহ আগুনে সেটি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ঈশ্বরদী নদীতে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। কিন্তু এখন সেই সময়সীমা নিয়ে গুরুতর সংশয় দেখা দিয়েছে। সূত্র পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, শনিবারের আগুনে ওই কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে, যে গতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছি, সেই গতি অনেকটাই স্লথ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে বিমানবন্দরের কার্গো হোল্ডের যে অংশে আগুন লাগে, সেখানেই রাখা ছিল ওই সব যন্ত্রপাতি। বিমানবন্দরে আমদানি হওয়া পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানিয়েছেন, এই যন্ত্রপাতি গুলি এসেছিল মাত্র ছদিন আগে। কিন্তু সেই সব সরঞ্জাম খালাস করতে গেলে প্রয়োজন হয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের। সে প্রক্রিয়ার কাজ চলছিল কিছুটা হলেও ধীর গতিতে। তবে রবিবার সেগুলি সংশ্লিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে শনিবার সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে। বাংলাদেশের একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আগুনে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য পুড়ে গিয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনও এই বিষয়ে কোনও বক্ত্য বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস এই ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, যারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিমানবন্দরের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না? বাংলাদেশের প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় রূপপুর পরমাণুকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই দুর্ঘটনা নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত এক বছরে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। গত জুলাই অগাস্ট অভ্যুত্থানের সময় একাধিক সরকারি বাড়ি লক্ষ্য করে অগ্নিসযোগের ঘটনা ঘটেছিল। তদারকি সরকার এর পিছন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেলেও বাংলাদেশের একটি সূত্র বলছে, এই সব প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা অত্যন্ত ঢিলে ঢালা। বহু প্রতিষ্ঠানের তো বীমাই করা নেই। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বণিকসভার একাংশ তদারকি সরকারকেই দুষছেন। তাদের মতে, কার্গো বিমানবন্দরের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশ গত এক বছরে একধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু তার পরেও তদারকি সরকারের কোনও তাপ-উত্তাপ নেই।
সরকার বিরোধী শক্তি বলছে, ইউনূসের এখন ওই সব দেখার সময় নেই। তিনি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর একাধিকবার বিদেশ গিয়েছেন। এখন যেহেতু দেশের অবস্থা একেবারেই ভালো নয়, তাই তিনি খুঁজছেন এমন একটি দেশ যে দেশ তাকে সেফ এক্সিট দেবে। তাই, আগুন কোথায় লাগল, কেন লাগল সেটা নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবিত নন। যদিও তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।












Discussion about this post