এই প্রতিবেদন গত ১৭ অক্টোবরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই দিন ত্রিপুরার বিদ্যাবিলে গোরু চুরি করে পালাতে গেলে তিন বাংলাদেশিকে গ্রামের বাসিন্দারা ধরে ফেলে। শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। তাতে মৃত্যু হয় ওই তিন গোরু চোর সহ চারজনের। বাংলাদেশের তরফ থেকে ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক জানিয়ে বলা হয়েছে, এদের গণপিটুনির শিকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কড়া ভাষায় ওই বিবৃতির প্রতিবাদ জানায়। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ত্রিপুরার দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ভারত অবগত আছে। সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার ভিতরে বাংলাদেশের তিন গোরু পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছ। বাংলাদেশের তরফ থেকে এটি গণপিটুনি বলা হচ্ছে। ভারত ওই দাবি মানতে নারাজ। ওই তিনজনের হাতে ছিল কাঠারি, দা, ছুরি। গোরু চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই গ্রামের বাসিন্দারা তাদের বাধা দিলে পাচারকারীরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। গ্রামসবাসীরা প্রত্যাঘাত করতে বাধ্য হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বাহিনী। দুই পাচারকারীকে তারা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত একজনকে ওই দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন তাঁর মৃত্যু হয়। তিনটি দেহ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’
প্রশ্ন হল, এই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ এত গলা চড়িয়ে কথা বলছে কেন? কেন বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক থেকে ঢাকাস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে চিঠি দিল? ঘটনার গুরুত্ব কিন্তু অন্যত্র। তারিখটার দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে এর আসল কারণ। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ অক্টোবর। সেই সময় বাংলাদেশে ছিল ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক করেন। হাতে তুলে দেন বেশ কিছু নথিপত্র, বলা ভালো স্যাটেলাইট ইমেজ। যেখানে ধরা পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে জঙ্গি শিবির। এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের আইএসআই। ভারতীয় সেনার তরফ থেকে উত্তরপাড়াকে জানিয়ে দেওয়া হয় ওই সব জঙ্গি শিবির ভেঙে ফেলত হবে। ফলে, সেনাপ্রধান বেশ চাপে পড়ে যান। ভারতীয় সেনার গোয়েন্দারা যে তলে তলে এতো তথ্য জোগাড় করবে, সেটা তিনি এবং তাঁর বাহিনী বুঝতেই পারেনি। তাই হাতেগরম প্রমাণ পেয়ে তার রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। এদিকে, আবার বিএনপি ইউনূসকে নানা ইস্যুতে লাগাতার চাপ দিয়ে চলেছে। তার মধ্যে একটি সেনার সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধানের সম্পর্ক। বিএনপির তরফ থেকে ইউনূসকে বলা হয়েছে, তিনি যেন বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। এই বার্তার আরও একটি কারণ রয়েছে।
বছর ঘুরলেই বাংলাদেশে ভোট। ক্ষমতার সিংহাসনে বসার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী মেজাজ হারালে তাদের সব পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যাবে। এমনিতে হাওয়া এখন হাসিনার দিকে। এই অবস্থায় সেনার বন্দুকের নল তাদের দিকে ঘুরে গেলে সেটা একেবারেই ভালো হবে না। তাই, ইউনূসকে বলেছে বাহিনীর সঙ্গে একটু বাবা-বাছা করে কথা বলতে। এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে এত মাস তো কষ্ট করলেন। নিজে জ্বলেছেন, বাকিদের জ্বালিয়েছেন। আর কয়েকটা দিন সহ্য করুন। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।
শনিবারের আরও একটি খবরে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান সেনার এক উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ যাওয়ার কথা।












Discussion about this post