সাঁড়াশি চাপে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। এই অবস্থায় সুদূর ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বোমা ফাটালেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তখনই আসবে যদি তদারকি সরকার প্রধান একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারেন যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে। সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচন হতে হবে অবাধ ও সুষ্ঠ। অবশ্যই হতে হবে নিরপেক্ষ।’ জয় বলেন, ‘সে দেশে যা হচ্ছে সেটা আসলে আমার মা এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা। এই রাজনৈতিক অভিসন্ধিকে বলা হচ্ছে ন্যায় বিচার। চলছে প্রতিহিংসার রাজনীতি।’ হাসিনাপুত্র বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন মানে ভাঁওতাবাজী। বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিচ্ছে মৌলবাদী শক্তি। তারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করছে। ফলে, বাংলাদেশ ক্রমশই উত্তাল হয়ে উঠছে। এই অস্থিরতা প্রশমনের একমাত্র উপায় স্বচ্ছ এবং অবাধ নির্বাচন যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে। জয় এও বলেছেন, ‘দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার ফলে তারা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে পারছে না। দেখা গেল একেবারে শেষ মুহূর্তে তদারকি সরকার দলের ওপর থেকে নিষেধ তুলে নিল। সেটা করলে নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ’
জয় এমন একটা সময়ে মুখ খুললেন যখন তদারকি সরকার প্রধান নানা ইস্যুতে চাপে রয়েছে। তাঁর চাপ আরও বাড়িয়েছে একটি পত্র, যেটি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিক সংগঠন। ওই চিঠিতেও একই দাবি করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।’ জোর দেওয়া হয়েছে বাক স্বাধীনতার ওপরেও। তদারকি সরকারের পুলিশ যেভাবে আওয়ামী লীগের একের পর নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে, সেটা একাবারেই ভালো চোখে তারা দেখছে না। তাদের মতে, আওয়ামী লীগকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখার একটা প্রচেষ্টা চলছে। এই অবস্থায় এবার মুখ খুললেন হাসিনা পুত্র জয়। প্রশ্ন হল, গত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। সে সব নিয়ে হাসিনাপুত্রকে বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। এমনকী, হাসিনাকে যেভাবে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেও জয় ছিলেন নীরব। তাহলে কী এমন হল, যার জন্য জয় এবার মুখ খুললেন। বলা ভাল মুখ খুলতে বাধ্য হলেন? সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, দলের মধ্যে জয় বেশ চাপে রয়েছেন।
জয় যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে একটি শব্দের দিকে ভালো করে নজর দেওয়া দরকার। জয় ব্যবহার করেছেন ‘ন্যায়বিচা’র শব্দটি। সেটা তিনি জ্ঞাতসারে করেছেন। কারণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ( ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) এমন অনেককে বিচারের আওতার আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা হাসিনা ঘনিষ্ঠ। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। জয় ঘুরিয়ে এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে কেন হাসিনা আমলের সেনাকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হল।












Discussion about this post