হীরকরাজা তাঁর শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠশালা বন্ধের নির্দেশ দিলে শিক্ষামন্ত্রী কিছুটা অবাক হয়ে যান। বিস্ময়ের সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যায় – পাঠশালা! হীরক রাজার তীর্যক উত্তর ছিল – তুমি কি কালা?
বাংলাদেশ এবার সাক্ষী থাকল পাঠশালা বন্ধের। সে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে অর্ডার) শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে এবার পথে নামল। বিক্ষোভের নেতৃত্বে রয়েছেন দেলওয়ার হোসেন আজিজি। তারা একটি সংগঠন তৈরি করে, সংগঠনের নাম রাখা হয় অ্যালায়েন্স ফর ন্যাশনাল অব এমপিও লিস্টেড এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। উৎসব ভাতা দিতে হবে মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য সরকার থেকে যে ভাতা দেওয়া হয়, সেই ভাতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা আন্দোলন শুরু হয় ১০দিন আগে। লাগাতার আমরণ অনশনের ফলে চার শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদিও তাদের এই দাবি মানতে নারাজ শিক্ষা মন্ত্রক। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষাকর্মীদের ২০ শতাংশ হারা ভাতা বৃদ্ধির দাবি অযৌক্তিক বলেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জুলাই সনদ সাক্ষরের দিন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বিভিন্ন মন্ত্রকের একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষা কর্মীদের ১০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির দাবির বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘শিক্ষকদের বিষয়ে আমরা আন্তরিক। তাদের দাবি নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। চেষ্টা চলছে দাবি পূরণের। তবে অর্থ মন্ত্রক পাঁচ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করতে রাজি হচ্ছে না। দফতরের তরফ থেকে অর্থমন্ত্রককে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। আপাতত আমরা শিক্ষকদের অনুরোধ করছি তারা যেন তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। ’
শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি শুরু হয় গত ১৭ অক্টোবর, দুপুর ২টো নাগাদ। অনশন কর্মসূচির পিছনে রয়েছে সরকারের একটি বিজ্ঞাপন। গত ৫ অক্টোবর সরকারের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই দাবি তারা মানতে অস্বীকার করে। সেইদিন থেকে শুরু হয় তাদের আন্দোলন। এর পর গত ১৩ অক্টোবর আন্দোলনরত শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে। পুলিশের এই লাঠি চার্জ আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। তার পর থেকে শিক্ষকেরা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করছেন। ১৫ অক্টোবর তারা শাহবাগ মোড় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের যমুনাভবন যাওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর তারা তাদের কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রশ্ন উঠছে, তদারকি সরকার জানিয়ে দিয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। সেই নির্বাচন তিনি নাকি অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর। ফলে হাতে সময় খুব কম এই অবস্থায় শিক্ষকদের আন্দোলনে তদারকি সরকার এবং সরকারের প্রধান ইউনূস বেশ চাপে পড়ে গেলেন। শিক্ষকদের দাবি এই সরকার মেনে নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post