একা রামে রক্ষে নেই সুগ্রীব দোসর। বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনার প্রত্যাবর্তন যে নিশ্চিত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই প্রত্যাবর্তনের খবরে অনেক আগেই তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের ঘুম অনেক আগেই উবে গিয়েছে। এবার তাঁকে চাপ দিচ্ছে ঘরের লোক। প্রশাসনে রদবদলের জন্য জামায়াত এবং বিএনপি ইউনূসের ওপর লাগাতার চাপ দিয়ে চলেছে। একপ্রকার সেই চাপের মুখে পড়ে তদারকি সরকার প্রশাসনিক পদে বেশ কিছু রদবদল করেছেন। সেই রদবদল নিয়েও আবার অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তরে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান। এক লপ্তে ২০জনকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাদের নিয়োগ করা হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে। এই ২০ জনের জায়গায় যাদের নিয়ে আসা হয়েছে, তাদের প্রশাসনিক কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ইতোমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে।
জামায়াত ইতোমধ্যে প্রশাসনিকস্তরে রদবদলের দাবিতে সরব হয়েছে। তাদের এক প্রতিনিধিদল ড. মোহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তারা জানিয়ে দেন, প্রশাসন, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনে রদবদল প্রয়োজন। তারা বিশেষ একটি দলের হয়ে কাজ করছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিল এনসিপিও। তাদের তরফ থেকে তদারকি সরকারের কাছে দাবি করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের। বিএনপির আরও এককাঠি উপরে। তাদের দাবি, ভোটের মুখে ইউনূস সরকারের প্রধান কর্তব্য এবং দায়িত্ব হবে অন্তরবর্তী সরকারের পরিবর্তে একটা তদারকি সরকারের ভূমিকা পালন করা।
এই রদবদল প্রসঙ্গে তদারকি সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এই ২০ জনকে তাঁদের পদ বহাল রাখলে আসন্ন নির্বাচন কোনওভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হত না। সেটা নিশ্চিত করতেই জেলা প্রশাসন শুরু করে প্রশাসনের একেবারে শীর্ষপদে রদবদল করতে হয়েছে। যদিও একটি সূত্রের খবর, সুনির্দিষ্টভাবে প্রশাসনিক পদে সেই ২০জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আওয়ামী ঘনিষ্ঠ এবং হাসিনাপন্থী বলে পরিচিত। এই রদবদল নিয়ে প্রশ্ন অন্যত্র। তদারকি সরকার প্রধান কি সত্যি তিনি সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ, যে দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বাংলাদেশের আসন্ন ভোট প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ করতে চাইছেন?
এ কথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। আসলে ইউনূসের ভয় অন্য জায়গায়। এরা থাকলে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ আরও প্রশস্ত হবে। সেটা তিনি কিছুতেই দিতে চাইছেন না। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের ভোট নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তাদের সমীক্ষা অনুসারে, আওয়ামী লীগ আরও বেশি সংখ্যক আসন নিয়ে এবার ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। সেটা যাতে কোনওভাবে হতে না পারে, তার জন্য ইউনূস আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে আবার এই রদবদল নিয়ে জামায়াত মুখ খুলেছেন। নায়েব-ই-আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের জানিয়েছেন, ‘ইউনূসের প্রতি আমাদের আস্থা এবং ভরসা আছে। আমরা ওনাকে (ইউনূসকে) বলেছি, কয়েকজন ওনার কান ভারী করছেন। ওনারে বিপথে চালিত করতে চাইছেন। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়, পুলিশে এখনও ৭০ – ৮০ শতাংশ মানুষ আছেন, যারা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। তাহলে প্রশাসনিক পদে রদবদলের জন্য চাপ আসছে সেই বিশেষ দলের থেকে। এমনকী বিচারবিভাগে এমন অনেকে আছেন, যারা ওই বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগামী। তাই, নির্বাচন স্বচ্ছ এবং অবাধ করতে প্রশাসনিকস্তরে রদবদল অত্যন্ত জরুরী। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post