আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাটা যে কত বড় ভুল পদক্ষেপ সেটা এখন বেশ বুঝতে পারছেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। নানা দিক থেকে তাঁর ওপর চাপ আসছে। চলতি বছরের মে মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচ আর ডব্লু) কড়া ভাষায় এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে। এমনকী আওয়ামী লীগের কর্ম-সমর্থকদের যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, যেভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করা হচ্ছে, তারা তারও নিন্দা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রস্থিত এই মানবাধিকার সংগঠন জানিয়ে দেয়, ‘তদারকি সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছে। সরকার আওয়ামী লীগের কর্ম-সমর্থকদের নিশানা করেছে। ওই দলের কর্মী-সমর্থকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ’ দল এবং দলের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে তদারকি সরকার সম্প্রতি একটি আইন সংশোধন করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তা নিয়ে তদারকি সরকারের সমালোচনা করেছে।
সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংগঠন তদারকি সরকারকে একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠির ছত্রে ছত্রে রয়েছে এই সরকারের সমালোচনা। সূত্রের খবর, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় যোগ দেওয়ার ফাঁকে ইউনূস তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, দলনেত্রী এবং ওই দলে রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কড়া সমালোচনা করেন। প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এত কিছু সমালোচনা হল, গোটা বিশ্ব জেনে গেল, অথচ বাংলাদেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে সেই খবর নেই। এমনকী ভিতরের পাতাতেও সেই খবরের জায়গা হয়নি। তদারকি সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে দলের সমর্থন আরও কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছে। তারা এখন বুক চিতিয়ে রাস্তায় মিছিল করছে। সম্প্রতি দলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আওয়ামী লীগের মিছিল লক্ষ্য করে বিএনপি এবং জামায়াত হামলা চালায়। পাল্টা হামলা চালায় আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
ইউনূস সরকার এবার নতুন একটি কৌশল নিয়েছে। তা হল গণমাধ্যমকে নিজের পকেটে রাখা। উদ্দেশ্য একটাই। গণমাধ্যমগুলি সেই সব খবর প্রকাশ না করে যে খবর আওয়ামী লীগকে অক্সিজেন জোগাবে। এই ক্ষেত্রে তদারকি সরকারের পাশে রয়েছে জামায়াত। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জামায়াতপন্থী বা জামায়াত সমর্থক রয়েছে। তাদেরও একই ইচ্ছা। তবে তাদের এই কৌশল কতদিন টিকবে তা নিয়ে বেশ সন্দেহ রয়েছে। কারণ, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের এক প্রতিনিধিদল আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকা আসছে। তারা সেখানকার আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে চায়। এর কারণ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা করে। আইএমএফ জানিয়ে দিয়েছে, সে দেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার নিরিখে তারা আপাতত বাংলাদেশকে কোনওভাবেই অর্থ সাহায্য করতে পারছে না। বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসবে, সেই সরকারের সঙ্গে তারা ঋণের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করবে। তাই আপাতত তারা আরও কোনওভাবেই আর্থিক অনুদান দিতে পারছে না। এর থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল। আইএমএফ ইউনূস সরকারের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করল। ২৯ অক্টোবর ঢাকা সফরে আসছেন আইএমএফের পদস্থ কর্তারা। তাদের এই সফরের উদ্দেশ্য একেবারে স্পষ্ট। তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সে দেশের অস্থির পরিস্থিতির কথা জেনে গিয়েছে। সেটা এবার সরেজমিনে দেখতে চায়।












Discussion about this post