ক্ষমতার মধু যে কত, সেটা তিনি বুঝতে পারেন যিনি এই মধুর স্বাদ একবার পেয়েছেন। সেই ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে নিয়ে বহু প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। সব প্রতিবেদনে তুলে ধরা চেষ্টা হয়েছে, যে ইউনূস কীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চান। তার জন্য নীতি আদর্শ বিসর্জন দিতেও তিনি কুণ্ঠাবোধ করে না। ইউনূসের এবার টার্গেট সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তদারকি সরকার এবার জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন। ইউনূস চাইছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াক। তার একটা প্রাথমিক আভাস পাওয়া গিয়েছে। তদারকি সরকারের দুই উপদেষ্টাকে তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে জামায়াত এবং বিএনপি ইউনূসকে লাগাতার চাপ দিয়ে এসেছে। তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তদারকি সরকার থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিক এই খবর প্রকাশ করেছে। অথচ জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের মূল কারিগর কিন্তু মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তদারকি সরকার সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের ওই দৈনিক জানিয়েছে, বিএনপি এবং জামায়াত ইউনূসকে অনেক দিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাকে তাদের পদ থেকে বরখাস্ত করার। তাদের দাবি, ওই সব উপদেষ্টাদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির গোপন আঁতাত রয়েছে।
এবার আসা যাক সেনাপ্রধান ওয়াকারের পদত্যাগ নিয়ে। আমরা সকলেই জানি, যে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কিন্তু হাসিনার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি তাঁর একটা যে সহানভূতি থাকবে, তা ধরে নেওয়া যেতেই পারে। তাই, তিনি ক্ষমতায় থাকলে, হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হবে। এদিকে, বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তুলে জেনারেল ওয়াকার বেশ চাপে পড়ে গিয়েছেন। বাহিনীর মধ্যে তৈরি হয়েছে বিরাট ফাটল। বাহিনীর মধ্যে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তারা আর ওয়াকারের পাশে নেই। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি কিন্তু একাট্টা।
আমরা এটাও জেনে গিয়েছি যে বাংলাদেশে নির্বাচনের ব্যাপারে সব থেকে বেশি সওয়াল করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। আর ইউনূস চাইছেন নির্বাচন পিছিয়ে দিতে। সেটা করতে পারলে তিনি আরও কিছুদিন ক্ষমতায় টিকে যেতে পারবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জেনারেল ওয়াকার। তাই তাঁকে যেভাবেই হোক ক্ষমতা থেকে সরাতে চান ইউনূস। সে কারণে তিনি জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। জামায়াত কিন্তু প্রথম থেকে এই সেনাপ্রধানের ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে এসেছে। সময় যত গড়িয়েছে, তারা জেনারেল ওয়াকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়েছেন। ইউনূস চাইছেন সেনাপ্রধান পদে এমন একজনকে নিয়োগ করতে যিনি তাঁর ইয়েসম্যান হবে। একই ইচ্ছা জামায়াতেরও। সেটা সম্ভব হবে যদি ওয়াকারকে প্রবল চাপের মধ্যে রেখে দেওয়া যায়। সেই চাপের কাছে জেনারেল ওয়াকার নতি স্বীকার করেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। না কি তিনি এমন কোনও পদক্ষেপ করবেন, যাতে ইউনূস এবং তার সরকার প্রবল চাপের মুখে পড়ে নির্বাচন আরও এগিয়ে আনবে।












Discussion about this post