ফাঁসিকাঠ নাকি অন্ধকার কারাগারে যাবজ্জীবন কি হতে পারে বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা তথা বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ? কী ঝুলছে তার ভাগ্যে ? আগামী ১৩ ই নভেম্বর রায় ঘোষণা করবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। সারা বিশ্ব কোন চরম রূপ দেখবে বদলার বাংলাদেশের ?
১৯৭৫ সালের ১৫ ই অগাস্ট বাংলাদেশ সেনার পাকপন্থী ঘাতক বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গেছিলো বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের। আর এবার সেই মুজিব কন্যা শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে বিশ্ব শান্তিতে নোবেল জয়ী তথা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডক্টর মহম্মদ ইউনুস। তাহলে কী এবার হাসিনার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে একেবারের জন্য মুছে ফেলা হবে শেখ মুজিবকে ?
মুজিবের বাংলাদেশে ৮ ই আগস্ট ২০২৪ শের পর ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী সরকার ডক্টর মহম্মদ ইউনুস। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বহু ঘটনা ঘটে গেছে। হাসিনার সরকার পতনের পর ইউনূসের সরকার শুধুই হেঁটেছে বদলার পথে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা থেকে শুরু করে পাঠ্যবই থেকে হাসিনা ও মুজিবের লেখা বাদ দেওয়া সহ একাধিক এধরণের জিনিস করা হয়েছে। যেই মুজিব দেশের জন্য এত করল, দেশে যার এত অবদান সেই মুজিবর রহমানের ছবিও রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেশের মুদ্রা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে নতুন নকশার নোট বাজারে এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন এই ইউনূসের সরকার। নিষিদ্ধ করা হয়েছে আওয়ামীলীগ কেও।
২০২৪ শের জুলাইয়ে গণ অভ্যুত্থানের সময় গণ হত্যা, গুম, খুন সহ একাধিক মামলা চলছে হাসিনা ও তার আমলের মন্ত্রী ও বেশ কিছু সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে। বিচার চলাকালীন গণ হত্যার দায়ে হাসিনার ফাঁসি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ও ফাঁসি চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আব্দুল্লা আল মামুন। চৌধুরী আব্দুল্লা আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। এর ফলে সোনায় সোহাগা অবস্থা ইউনুস সরকারের। কারণ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও বড় সুযোগ পেলেন ইউনুস।
বাংলাদেশের জনগণের বিক্ষোভের জেরে ২০২৪ শের ৫ ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। ছাত্র সমাজ দেশ ছাড়া করল দেশের প্রধানমন্ত্রী কে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে লুঠ চলেছিল। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ধরে ধরে পিটিয়ে মারা হয়েছিল আওয়ামীলীগের নেতা – কর্মীদের। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা তার বোন রেহানাকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের হিন্দাল বায়ু সেনা ঘাঁটিতে চলে আসেন। বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতেই রয়েছেন তিনি। হাসিনার এই পরিস্থিতির জন্য দিল্লি ও ঢাকার মাঝে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনাকে দেশে ফেরত চেয়ে কূটনৈতিক স্তরে ভারতের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতের তরফে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে মুজিবের বংশ নিশ্চিহ্ন করতে হাসিনার ফাঁসির দাবি করা হচ্ছে।












Discussion about this post