পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা, যিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্তা। শুক্রবার রাতেই তিনি ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ ফয়জুর রহমান তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন। পাক আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর জানিয়েছে, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেলের সঙ্গে রাতেই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাক শীর্ষ সামরিক কর্তা জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা। যদিও এই বিষয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কিছু বলেনি। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমও খবরটি এড়িয়ে গিয়েছে। তবে জানা যাচ্ছে, শনিবারই উচ্চ পর্যায়ের এই পাক সামরিক প্রতিনিধিদলটি ঢাকার যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করছে এই সফর।
জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের পর দ্বিতীয় সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। নিশান-ই-ইমতিয়াজ সামরিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত জেনারেল মির্জার সাথে এই সফরে এসেছেন তাঁর স্ত্রী শাজিয়া সাহির, ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ রশিদ খান, কমোডর খান মুহাম্মদ আসিফ এবং দুই মেজর। তাঁদের প্রথম বাংলাদেশ সফরটি ইউনূসের কার্যালয়ের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হল, ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তিন সদস্যের একটি দল কয়েকটি সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে বাংলাদেশের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্তার ঢাকায় আগমণ। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁদের সামরিক সমঝোতা ও দৃঢ়তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এমনকি কয়েকটি গোপন চুক্তিও হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যেহেতু জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আধিকারিক, সেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে কয়েকটা চুক্তি হওয়া অসম্ভব নয়। ফলে পাক সেনাকর্তাদের এই সফরের দিকে কড়া নজর রাখছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ঢাকার একটি হোটেলে রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর এজেন্ট টেরেন্স আরভেল জ্যাকসন। কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, ওই হোটেলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে পাকিস্তানের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এক সিনিয়র এজেন্টকে। যদিও পাক গুপ্তচরের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করেনি ঢাকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। তবে বাংলাদেশকে ঘিরে যে একটা বড় কিছু ঘটছে, সেটা নিয়ে নিঃসন্দেহ ওয়াকিবাহাল মহল। বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টেই দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আড়ালে থাকা জামাত নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে যেমন ঘনিষ্টতা বাড়াচ্ছেন, তেমনই ভারতকে চাপে ফেলার একাধিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিঁদূরের পর পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দাবি করেছিলেন, এবার ভারত আক্রমণ করলে পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ভারতকে আক্রমণ করা হবে। অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করেই ভারতে আক্রমণের কথা বলেছিলেন। এবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্তা ঢাকায় এলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে ২৭ অক্টোবর পাক জেনারেল মির্জা সিলেট সেনানিবাস পরিদর্শন করবেন। ২৮ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে দেখা করবেন। বাংলাদেশে পাক সেনাকর্তার এতগুলি হাইপ্রোফাইল বৈঠক ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার পক্ষে যথেষ্ট। তাহলে কি বাংলাদেশও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post