মহম্মদ ইউনূস বুঝেছেন তিনি হাজার চেষ্টা করেও আওয়ামীলীগকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না। তিনি যাদের উপর সবচেয়ে বেশী ভরসা করেছিলেন, সেই ছাত্রদের দল এনসিপি রাজনীতির কিছুই বোঝেনি। তারা ক্ষমতায় না গিয়েই ক্ষমতা এবং টাকার স্বাদ পেয়ে গেছে। কিন্তু সেই স্বাদ যাতে কিছুদিন পর না বিষ হয়ে ওঠে, সেই চেষ্টা বা ব্যবস্থা করতে পারেনি। তাই তারা এখন উপদেষ্টাদের দোষ দিয়ে নিজেরা বাঁচতে চাইছে। কিন্তু ইউনূস সাহেবে শুধু প্রধান উপদেষ্টা নন। তিনি বাংলাদেশের একজন নামকরা ব্যবসায়ী। তাই শুধু তিনি নিজে বাঁচলেই তো হবে না, তার বিশাল ব্যবসাকে বাঁচিয়ে সেফ এক্সিটের প্রয়োজন। এবং ভারত যে তাকে খুব একটা পাত্তা দেবে না, তা তিনি বুঝে গেছেন। তাই অনেক আগের থেকেই তিনি প্লান করে আসছেন যে যদি তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব হয়ে যেতে পারেন, তাহলে তার গায়ে আর কেউ হাত দিতে পারবে না। যদিও বাংলাদেশের একটি ইউনূস ঘনিষ্ঠ পত্রিকা থেকে তার প্রেস সচিবের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিকে রটনা বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। কিন্তু ঐ সংবাদপত্রের কাছে পাকাপাকি খবর আছে যে ইউনূস সাহেব বিভিন্ন ভাবে খুব জোরসোর দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে তিনি, জাতিসংঘের মহাসচিবের পদটি পেতে পারেন। এবং এই কারণে তিনি দেশের লুঠ করা টাকা অকাতরে ঢেলে যাচ্ছেন। এমনও শোনা যাচ্ছে যে তিনিই সবেথেকে বেশী টাকা ঢেলেছেন। শুধু একটি পত্রিকা নয় আর একটি পত্রিকা বনিক বার্তাও খবর করেছে, যে জাতিসংঘের মহাসচিবের তালিকায় ইউনূসেরও নাম আছে। তখন বুঝতে হবে খবরটি শুধুই রিউমার নয়। মনে রাখতে হবে যে খলিলুর রহমানের নিয়োগের কথা। যিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে কাজ করেছেন এবং তিনি জানেন কোথায় কাকে কিভাবে টাকা দিয়ে মহাসচিবের পদটি কেনা যেতে পারে, যেমন করে ইউনূস নোবেলটি কিনেছিলেন। তো সেই খলিলুরকে তার হাইরিপ্রেজেনটিভ পদে নিয়োগটি, আসলে তার জাতিসংঘের মহাসচিব পদে বসার ক্ষেত্রে দেনা পাওনা বা দরকষাকষিটা মিটিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ বলেই অনেকে মনে করছেন। মানে তখন থেকেই এই গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জোরালোভাবে তিনজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া আরো কয়েকজনের সম্ভাবনা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ, যার মধ্যে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অবশ্য বলছে, জাতিসংঘ মহাসচিব পদে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি রিউমার। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু না থাকলেও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়টি পুরনো এবং তার নাম আলোচনায় আসা অস্বাভাবিক নয়।
জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব পদের প্রার্থী নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হবে। সেই হিসাবে সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ তথা ৮০তম অধিবেশন থেকেই নতুন মহাসচিব নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নামও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে এমন আন্তর্জাতিক প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মহাসচিব পদে জোরালোভাবে যে তিনজনের নাম প্রকাশ্যে এসেছে তারা হলেন—চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলে, আর্জেন্টিনার নাগরিক ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি এবং কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
মিশেল ব্যাশেলে, মারিয়ানো গ্রসি ও রেবেকা গ্রিনস্প্যান ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি নাম ‘রিউমারড পটেনশিয়াল ক্যান্ডিডেটস’ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এ তালিকায় এখন পর্যন্ত নোবেলজয়ী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম উল্লেখ না থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র বলছে মহাসচিব প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় থাকার বিষয়টি পুরনো। এখন তার বিদেশী বন্ধুরা নোবেল পাওয়ার মত এই পদটিও তাকে উপহার দিতে পারেন কিনা সেটিই দেখার।











Discussion about this post