বাংলাদেশে হাসিনার প্রত্যাবর্তন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি সে দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করে। সেই সমীক্ষায় আভাস দেওয়া হয়েছে অতীতের থেকে আরও বিপুল সংখ্যক আসনে জিতে ক্ষমতায় আসীন হতে চলেছেন আওয়ামী লীগ। তবে প্রধানমন্ত্রী পদে হাসিনাকে দেখা যাবে না অন্য কেউ বসবে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হাসিনাকে মসনদে দেখতে চাইছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার একটা কারণ রয়েছে।
বলা হচ্ছে বাংলাদেশের পট পরিবর্তনের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে সাহায্য করে ডিপ স্টেট। কিন্তু যে আশা নিয়ে ইউনূসকে তারা সিংহাসনে বসিয়েছিল, তার একটি আশাও পূরণ হয়নি। উল্টে বাংলাদেশ চলে গিয়েছে খাদের কিনারে। এবার তারা চাইছে ইউনূসের অপসারণ এবং হাসিনার প্রত্যাবর্তন। তার কিছু সংকেতও পাওয়া যাচ্ছে। একেক করে সেই সংকেত নিয়ে পর্যালোচনা করা যাক। মোট পাঁচটি সংকেত রয়েছে। সব থেকে বড় সংকেত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে ইউনূস সরকারকে কড়া চিঠি, যে চিঠিতে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোট অবাধ এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তুলে নিতে হবে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা। কিছুদিন আগে ইউনূস একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে। ফলে, বাংলাদেশের রাজনীতি মূল স্রোতে ফিরে আশার লকগেট খুলে গেল।
বাংলাদেশে সড়ক পরিবহনে অতিমাত্রায় চাঁদাবাজি বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষ তখন বিকল্প দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে। তারা ইতোমধ্যে বিএনপি জমানা দেখেছে। উপলব্ধি করেছে, একমাত্র আওয়ামী লীগ তাদের আশা-ভরসার স্থল। আগে তাদের দিতে হত ৫ হাজার টাকা। এখন দিতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে পারে আওয়ামী লীগ।
দ্বিতীয় সংকেত নারীর প্রতি অস্বাভাবিক হারে বিদ্বেষ বেড়ে যাওয়া। বলা হয়, অতীতে হাসিনাহীন বাংলাদেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল নারী বিদ্বেষ। তখন থেকেই একটা আভাস মিলেছিল যে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ আরও প্রশস্ত হতে চলেছে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে এখন। ভোটে এটা আওয়ামী লীগের কাছে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। বাংলাদেশের মহিলারা যখন মনে করবে, তাদের স্বাধীনতা বিঘ্ন হচ্ছে তখন তারা আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। বাংলাদেশের ভোটারদের একটা বড় অংশ মহিলা ভোটার।
তৃতীয় কারণ, মৌলবাদী শক্তির উত্থান। ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থানও কিন্তু অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ওপর বেড়েছে নির্যাতন, নিপীড়ন। হিন্দু মন্দির ধ্বংস করার এক প্রতিহিংসাপরায়ন রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ মনে করে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে এই মৌলবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্ত কমবে।
চতুর্থ কারণ সেকুল্যার কমিনিটির ওপর হামলা। বাংলাদেশের এই গোষ্ঠী ভীষণ সক্রিয়। তাদের স্লোগান অনেকটাই এইরকম – ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সংবিধান প্রদত্ত ধর্মাচরণের অধিকারকে তারা প্রাধান্য দেয়। ইউনূসের আমলে সেটা পদে পদে লঙ্ঘিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন উদিচি, ছায়ানট। তাদের ওপর হামলা হয়েছে। রমনার বটমূলে হামলার ঘটনা প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ওই ঘটনার পর আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতা দখল করে।
পঞ্চম এবং শেষ সংকেতটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী অবস্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অর্থ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন। আমেরিকা গণতন্ত্রের পক্ষে, মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু বাংলাদেশে যে আর গণতন্ত্র নেই, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। উল্টে মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে।
এই পাঁচ সংকেতের ওপর ভিত্তি করে বলা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post