কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ইস্যুতে একটি খবরের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল যে তদারকি সরকারের যিনি প্রধান, সেই মহম্মদ ইউনূস একসময় ব্যাংকে চাকরি করতেন। আর ব্যাংকে যারা চাকরি করেন তারা ভীষণ হিসেবী। তারা ভুল পদক্ষেপ করেছেন, এমন সচরাচর চোখে পড়ে না। বাংলাদেশের কর্মরত এবং প্রাক্তন সেনাসদস্যদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পেশ করার সিদ্ধান্তে পিছনে এখন অনেকেই তাঁর হাত দেখতে পাচ্ছেন। এবার তিনি আরও একটা মোক্ষম চাল চেলেছেন। সেনাপ্রধান ওয়াকারের আর্জি ছিল তাঁর প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাসদস্যদের যেন নীল রংঙের প্রিজন ভ্যানে করে না নিয়ে যাওয়া হয়। সেনাপ্রধানের আর্জি মেনে ড. ওয়াকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের একটি প্রিজন ভ্যান তাদের জন্য বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেনাপ্রধান ওয়াকার সম্প্রতি ব্রিগেডিয়ার আজমির সঙ্গে দেখা করেন। অনুরোধ করেন, তাদের অফিসারদের যেন জেলে না নিয়ে যাওয়া হয়। দুটি ঘটনার অবতারণের কারণ, একটা বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত একাধিক সদস্যকে বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার যে আত্মঘাতী পদক্ষেপ করেছেন, সেটা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তাঁর ‘ব্রাদারদের’ প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি যারপরনাই কষ্ট পেয়েছেন। সত্যি কী তাই? সেটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তো তিনি এই অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে পারতেন। কারণ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, তিনি যে এই পদক্ষেপ করতে চলেছে, সেটা তিনি তাঁর কোর গ্রুপে জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই কোর গ্রুপ কিন্তু তাকে এই পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত অটল থাকেন।
তবে বাংলাদেশে এই ঘটনা নিয়ে দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একটি গোষ্ঠী ৭১-য়ের পক্ষে, যারা মনে করে জেনারেল ওয়াকার অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ করেছেন। বাহিনীর একাংশ সদস্যদের বিচারের আওতায় এনে তিনি বাংলাদেশ সেনার মান সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়পক্ষ এর ঠিক বিপরীত মেরুতে। তাদের মতে, জেনারেল ওয়াকার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, জেনারেল ওয়াকার বাহিনীর প্রধান। বাহিনীর যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তারা তো তাদের ‘হেড স্যর’-য়ের নির্দেশ পালন করেছেন। তাহলে সেই হেডস্যরকে কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না? তাকে কেন বিচারের বাইরে রাখা হবে। তাঁর নির্দেশ এরা কার্যকর করেছেন। স্বেচ্ছায় এর দায়ভার তো তার নেওয়া উচিত। কেন তিনি দায় নিচ্ছেন না।
প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়? কোনটা প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ, কোনটা দায়িত্বপালনরত অবস্থায় করা অপরাধ আর কোনটি ব্যক্তি অপরাধ – এই তিনটি বিষয় কী আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও, যেখানে দেখা গিয়েছে উর্দিধারী এক সেনাকর্তা গুলি চালাচ্ছেন। বিষয়টি এমন নয় যে তাঁর মনে হল, তাই তিনি গুলি চালালেন। গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই নির্দেশ কার্যকর করেছেন। তাহলে ওই সেনাকর্তাকে গ্রেফতার করা হলে যিনি গুলি চালাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁকেও গ্রেফতার করা দরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post