আচমকা বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে দেখা করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে সে দেশের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠক হয়েছে গত শুক্রবার, রাতে। তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এই বৈঠক নিয়ে কোনও তরফ থেকেই কিছু বলা হচ্ছে না। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন ফজলে এলাহী আকবর। এই আকবর একসময় বাংলাদেশ সেনার মেজর জেনারেল পদে ছিলেন। এই বৈঠক নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতুহল। একটাই প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে, কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, যার জন্য উত্তরপাড়ার বড় কর্তার সঙ্গে বৈঠক করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রাক্তন সেনাকর্তা ফজলে এলাহী আকবর। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এই বৈঠক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিএনপির অভ্যন্তরে একটি বিষয় নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মামুদ হোসেনকে তাঁর অবসরের পর তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রধান পদে নিয়োগ করা হোক। আগামী ২৭ ডিসেম্বর তিনি অবসর নেবেন। পরে বছর ফেব্রুয়ারিতে ভোট। এই বিএনপি চাইছে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই মধ্যবর্তী সময়ে সৈয়দ মামুদ হোসেনকে তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রধান পদে নিয়োগ করা হোক। বিএনপি থেকে কেন এই প্রস্তাব দেওয়া হল। এর মূল কারণ, তারা তো বটেই এমনকী বাংলাদেশের ছোট রাজনৈতিকদলগুলিও বুঝে গিয়েছে ইউনূস একেবারেই অপদার্থ। গত ১৬ মাসে সেটা প্রতি মুহূর্তে প্রমাণিত হয়েছে। না হোমে লাগে, না যজ্ঞে। এই সরকারের অধীনে ভোট পরিচালনা মানে বাঁদরের গলায় মুক্ত মালা। এই সরকার সামান্য একটি ঘটনা সামাল দিতে পারে না। পারে না তাঁর পুলিশ। নির্বাচনের মতো একটা রাষ্ট্রীয় ষজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে শুরু এবং শেষ কোনওভাবেই সম্ভব নয়। বাংলাদেশে কিন্তু ইতিমধ্যে হাওয়ায় একটা খবর ভাসতে শুরু করেছে যে নির্বাচনের আগেই তদারকি সরকারের মুখ বদলে যাবে।
এই বৈঠকে আরও একটি দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রের খবর তিনি নভেম্বরেই ফিরতে পারেন। ২০ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন। বিএনপি চাইছে, খালেদা পুত্র তারেক তাঁর হীরক জয়ন্তী জন্মদিন দেশে ঘটা করে পালিত হোক। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকে এই নিয়ে কথা হয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ফজলে এলাহী আকবরের। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হতে পারে। নানা জনে নানা সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। তবে সকলেই সম্ভাব্য এই তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর দাঁড়িয়ে শুক্রবারের বৈঠকে দু পক্ষের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরতদের একাংশের বিচার নিয়েও তারা মত প্রকাশ করতে পারেন। তবে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ, এটা একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। এ বাদে বাকি তিনটি বিষয় নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তাই, এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে শুক্রবার রাতে জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে বিএনপির দুই শীর্ষকর্তার ওই তিনটি বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post