মোদি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের তিয়ানজিন শহরে ছিলেন। ওই সম্মেলনের পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি গাড়ির ভিতরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বৈঠক করেছিলেন। পুতিনের সুরক্ষিত লিমুজিনে মোদির সঙ্গে দীর্ঘ একান্ত বৈঠক নিয়ে আজও গোটা বিশ্বে চর্চা চলে। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে এক গভীর চক্রান্ত। নরেন্দ্র মোদীকে প্রাণে মারার চক্রান্ত।
সদ্য শেষ হওয়া এসসিও সম্মেলনে প্রাণে মারার চক্রান্ত করা হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কিন্তু কে বা করা চেষ্টা করেছিল মোদীকে প্রাণে হত্যা করার ? তা স্পষ্ট নয়। হতেও পারে হয়তো বাংলাদেশই প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিল মোদীকে। কারণ, হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রতিবেশী দেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালো নয়। আবার এমনটাও হতে পারে বাংলাদেশ কে ঘুটির মত কাজে লাগিয়ে মোদীকে প্রাণে হত্যা করতে চায় আমেরিকা।
গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের ৮০৮ নাম্বার ঘর থেকে মার্কিন ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডার ইন্সপেক্টর জেনারেল টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল। সে সময়ই তা নিয়ে কিছুটা শোরগোল হয়। তবে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশ বলেছিল, এই মৃত্যুর পিছনে কোনও অস্বাভিক কারণ নেই। ফলে ওই অফিসারের দেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তুলে দেওয়া হয়েছিল মার্কিন দূতাবাসের হাতে। জানা যায়, গত ৬ মাস ধরে বাংলাদেশে ছিলেন জ্যাকসন। ঢাকার হোটেলে মার্কিন অফিসারের মৃতদেহ পাওয়ায় এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গুলি।
ঢাকার প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ২০২৪ সালে ৬ বার বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার বারবার আসার কারণ ছিল ব্যাবসায়িক। এই ব্যাবসায়িক কাজের নামে তিনি দেখা করেছিলেন একাধিক ব্যক্তির সাথে। যেমন গত ৫ ই অগাস্ট কক্স বাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত জাতীয় পার্টির ৫ জন নেতার সাথে দেখা করেছিলেন পিটার হাস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে অন্যতম ভূমিকা ছিল এই ৫ জন নেতার। অন্যদিকে ২০২৪ র ৫ ই অগাস্ট গণআন্দোলনের জেরে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মার্কিন সেনার বিশেষ বাহিনীর এক প্রাক্তন সিনিয়র কর্তার একটানা বাংলাদেশে অবস্থান, এক প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বারবার বাংলাদেশে আসা ফলে মার্কিনিদের এই কর্ম কাণ্ডে উদ্বেগ নয়া দিল্লির। ঢাকায় তাদের কর্ম কাণ্ডের উপর নজরদারি রাখছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গুলি। ফলে এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মার্কিনিরা বাংলাদেশের সহায়তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে হত্যার একটা চক্র করতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী এসসিও সম্মেলনেই মোদীকে প্রাণে হত্যা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল ? সেটা কী আগেই বুঝে গেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ? তাহলে কী সেই কারণেই তিনি নিজের গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ? গাড়িতে চলা দীর্ঘ এই ৪৫ মিনিটের বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের গোপন কী বৈঠক হয়েছিল তা সকলের অজানা। তবে বৈঠকে মোদী কী পুতিনকে বলেছিলেন যে পুতিনেরও প্রাণ নাশের আশঙ্কা থাকছে ? তবে এই প্রাণনাশের খেলার নেপথ্যে কে তা কিন্তু অজানা।












Discussion about this post