বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার যে রীতিমতো ভারতবিরোধী চক্রান্তের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে তা বহুদিন আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। তবে ইদানিং মুহাম্মদ ইউনূস যে কাণ্ড কারথানা করছেন, তা দেখে বিশ্লেষকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের বিরুদ্ধে কোন ভয়ানক ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশে?
গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। তার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দহরম মহরম বেড়েছে। বিগত কয়েকমাসে পাকিস্তানের সেনাকর্তারা ঘনঘন বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন। আবার কয়েকবার বাংলাদেশের সেনাকর্তাদের একটা অংশ পাকিস্তান সফর করেছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকেই স্বাধীনতা লাভ করেছিল বাংলাদেশ এক দীর্ঘকালীন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। সেবার ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সাহায্য করেছিল। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পরবর্তী ৫০ বছর অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পতন হতে হতে একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই আবহেই পাকিস্তানি জেনারেলদের একের পর এক আগমণ বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে আরও একটি খবর বাংলাদেশের বুকে ভারতবিরোধী চক্রান্তের তত্ত্ব আরও জোরালো করে তুলছে। সেটা হল সরকারি স্তরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের মাধ্যমে ৪০ হাজার যুবক-যুবতীকে ক্যারাটে ও আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার খবর। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ৭টি শিবির তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রথম ধাপে ৮৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সে দেশের সেনা অফিসাররা। যারা আবার পাকিস্তানপন্থী বলেই পরিচিত। এই প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি তদারকি করছেন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার আধিকারিকরা। বাংলাদেশের দাবি, রিজার্ভ ফোর্স হিসেবেই এই ৪০ হাজার যুবককে অস্ত্রশস্ত্র চালোনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কি এমন প্রয়োজন হল যে এত বড় একটা রিজার্ভ ফোর্স তৈরি করতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের দাবি, আসলে সিরিয়া, ইরাকের মতো বাংলাদেশেও এবার শক্তিশালী একটা ইসলামিক আর্মি বা মিলিশিয়া তৈরি করতে চাইছে ইউনূস সরকার। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন, দেশের থানাগুলিতে যে লুটতরাজ চলেছিল, সেই ভারী অস্ত্র চালানোর জন্যই এই বাহিনী তৈরি করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যা প্রয়োজন মতো ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে যেভাবে বিভিন্ন কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠন ও দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাতে এভাবে সরকারি প্রকল্পের অধীনে যুবকদের আধুনিক অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়াটা মারাত্মক একটা বিষয় হতে চলেছে। আর সেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন পাকপন্থী একদল সেনা আধিকারিক। সেটা আরও বড় বিষয়। সবটাই ভারতের জন্য ঝুঁকির, এটা বলাই বাহুল্য। সমালোচকরা দাবি করেন, মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার পদে থাকলেও আসলে তাঁকে পরিচালনা করেন জামাত ও কট্টরপন্থীরাই।
আরও দুটি খবর ভারতের জন্য চিন্তার কারণ। প্রথমটি হল পাকিস্তানের মারকাজি জমিয়াত আহলে হাদিসের একজন শীর্ষ জঙ্গিনেতা যিনি জামাত উদ দাওয়া প্রধান হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। মারকাজি জমিয়ত আহলে হাদিসের ‘সিনিয়র আলেম’ ইবতিসাম এলাহি জহিরের দিন দুয়ের আগে ঢাকায় আসেন। এরপরই তিনি বেশ কয়েকটি গোপন বৈঠক করেন। আরও জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ওই শীর্ষ জঙ্গিনেতা সোমবার ভারতের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসেছেন। সেখানে তাঁর নাচোল সহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন এবং স্থানীয় কিছু মসজিদে সভা করার কথা রয়েছে। তিনি ২৯ থেকে ৩১ নভেম্বরের মধ্যে, জহির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের রংপুর, লালমনিরহাট এবং নীলফামারীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন বলেও জানা যাচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হল, ভারতের কট্টর ধর্মীয় নেতা জাকির নায়েকের ঢাকা সফর। ৯ বছর আগে এই জাকিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে এবার রেড কার্পেটে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে জাকির নায়েককে। জানা যাচ্ছে, আগামী ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশে যাচ্ছে জাকির, সেখানে থাকবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পাকিস্তানের পর জাকিরের বাংলাদেশ সফরে কড়া নজর ভারতের গোয়েন্দা বিভাগগুলির। সন্ত্রাসবাদকে মদত যোগাতে পাকিস্তানের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে ধর্মসভার আয়োজন করেছিলেন জাকির নায়েক। এবার তাঁর বাংলাদেশের সফর ভারতের জন্য আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ড ভারতকে চিন্তায় রাখছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এটা ভারতের সহ্যের সীমা অতিক্রম করছে। যা বড় কোনও পদক্ষেপের ইঙ্গিত।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post