মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় অতি সক্রিয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তান, শ্রীলংকা থেকে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশ, প্রতিটি দেশেই সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক পালাবদলের পিছনে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ রয়েছে বলে দাবি। বিশ্বের অন্যতম রাষ্ট্রীয় গুপ্তচর সংস্থা যে ভারতেও বেশ কয়েকবার রাজনৈতিক পালাবদলের চেষ্টা চালিয়েছিল, তা অনেক বিশ্লেষকই দাবি করেন। বিশেষ করে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে হঠানোর জন্য ভারতে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করতেও পিছপা হয়নি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা। মূলত মার্কিন ডিপ স্টেট ও তাঁদের সহযোগী কয়েকটি এনজিও এই কাজ অতি গোপনে চালায়। ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখা এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালায় প্রতিনিয়ত। ফলে মোদি সরকার এখনও টিকে আছে। তাই কি এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই টার্গেট করল সিআইএ? সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটাই চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসুন একবার বিশ্লেষণ করা যাক ঠিক কি ঘটেছে, কেনই বা বলা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির জীবন বিপন্ন হতে পারে?
সিআইএ যে কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তার মধ্যে অন্যতম হল বিভিন্ন দেশে সরকারবিরোধী প্রচার, নাগরিক বিদ্রোহের মাধ্যমে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারগুলিকে উৎখাত করা এবং মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে দেশটি অর্থনৈতিক, সামরিক ও গণতান্ত্রিক দিক থেকে গোটা বিশ্বকেই শাসন করে, সেই দেশের আধিপত্য স্বীকার করে বিভিন্ন মহাদেশের অসংখ্য দেশ। সেই মার্কিন আধিপত্য ইন্দো পাসিফিক অঞ্চলে এসে যেন থমকে গেছে। অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য নেই। এদিকে চিন ও ভারতের আধিপত্য প্রশাতীত। ফলে এই দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই করে চলেছে। তাই পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ইসলামিক দেশগুলিতে মার্কিন প্রভাব বাড়িয়ে এই এলাকায় নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অতি সক্রিয়। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটানো হয়েছে। তাঁদের হাতের পুতুল মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হচ্ছে খেলা। চট্টগ্রামের কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস অফিসার টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল। সে সময়ই তা নিয়ে কিছুটা শোরগোল হয়। তবে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। ফলে খবরটা নিয়ে খুব একটা চর্চা হয়নি। যেদিন জ্যাকসনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, সেদিন নরেন্দ্র মোদি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের তিয়ানজিন শহরে ছিলেন। ওই সম্মেলনের পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি গাড়ির ভিতরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বৈঠক করেছিলেন। পুতিনের সুরক্ষিত লিমুজিনে মোদির সঙ্গে দীর্ঘ একান্ত বৈঠক নিয়ে আজও গোটা বিশ্বে চর্চা চলে। এরমধ্যেই যেটা জানা যাচ্ছে, ওই মার্কিন গুপ্তচরের মৃত্যুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে ওই একই হোটেলে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় পাক গুপ্তচর সংস্থার এক শীর্ষ এজেন্টের। এই খবরও চেপে গিয়েছিল ঢাকা। কিন্তু ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশে আরও তিন মার্কিন এজেন্টের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। আর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। তবে নিহত মার্কিন গুপ্তচরদের পরিচয় কেউ ব্যবসায়ী বা কেউ পর্যটক হিসেবে বলা হয়েছিল। গোটা বিষয়টি বেশ রহস্যজনক এবং গোপনীয় ভঙ্গিমায় হয়েছে। ঠিক যেমনটা পাকিস্তানের মাটিতে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের হাতে একের পর এক শীর্ষ জঙ্গিনেতার মৃত্যু হচ্ছে, ঠিক সেই ধাঁচে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের একাধিক দেশের গুপ্তচর সংস্থা সক্রিয় রয়েছে। যেখানে মার্কিন সিআইএ, পাকিস্তানের আইএসআই যেমন আছে, তেমনই ভারতের গুপ্তচর সংস্থা “র” আছে। আবার রুশ গুপ্তচর কেজিবি এবং ইসরাইয়েলের গুপ্তচর বাহিনী মোশাদও সক্রিয় ঢাকায়। ফলে বেছে বেছে মার্কিন ও পাক গুপ্তচরদের কে বা কারা খতম করছে, সেটা নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে। তবে কেউ কেউ দাবি করছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার একটা চক্রান্ত ছিল মার্কিন সিআইএ এবং পাকিস্তানের আইএসাআইয়ের। কিন্তু তাঁদেরকে টেক্কা দিয়েছে ভারত ও রাশিয়ার গুপ্তচররা। আর সেটা নিয়েই কি লিমুজিনে বসে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন মোদি ও পুতিন? উত্তর হয়তো কেউ কোনও দিন জানতে পারবেন না।












Discussion about this post