বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ করাটাই একমাত্র দোষের। তাই মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালে কয়েকশো আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এরকমই একাধিক তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে যা চমকে দেওয়ার মতোই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তরফেই দাবি করা হচ্ছে, ইউনুস সরকারের হাতে বিগত এক বছরে আওয়ামী লীগের প্রায় ২ হাজার কর্মী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। পাশাপাশি ১০ হাজারের বেশি কর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর সরকারের অধীনে ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য নিজেই দায়মুক্তি চাইছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কয়েকশো মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, আহত হয়েছিলেন কয়েক হাজার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট গোটা বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, সেটাও কম নয়। এমনকি সে বছর ৮ আগস্টের পর থেকে পরের কয়েকমাসে বাংলাদেশে চলেছে এক পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। যা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর করা হলেই, বাংলাদেশের উপদেষ্টারা সমস্বরে দাবি করতে থাকে এগুলো সব ভুয়া খবর। কিন্তু শাক দিয়ে যে মাছ ঢাকা যায় না, সেটাই প্রমান করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। এমনকি মুহাম্মদ ইউনূসও কর্যত স্বীকার করেছিলেন, এই সময়কার গণহত্যা নিয়ে। আর তিনি নিজেই দায়মুক্তি চাইছেন, সেইসমস্ত খুনের মামলা থেকে!
বাংলাদেশ পুলিশের ঘোষিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের বিগত দশ-সাড়ে দশ মাসের শাসনকালে বাংলাদেশ কার্যত খুনি, ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে, ইউনুস সরকারের বিগত ১০ মাসে সে দেশে অন্তত ৩৫৫৪ খুন ও ৪১০৫ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল চলতি বছরের জুলাই মাসে। ফলে এই সংখ্যাটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত আরও একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন যেমন স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মৎসজীবী লীগ, কৃষক লীগ ইত্যাদির কমপক্ষে ১২৩ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আবার কেউ মারা গিয়েছেন জেলবন্দি অবস্থাতেই। যদিও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার দাবি, কমপক্ষে ২ হাজার কর্মী নিহত হয়েছে শান্তির নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালে।
বাইট – শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী
https://www.facebook.com/reel/917273217205665
ঠিক এই আবহেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর অঙ্গীকারনামায় ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত ‘হত্যাকাণ্ডের বিচার’ যেমন রাখা হয়েছে, তেমনই ‘আইনগত দায়মুক্তির’ বিষয়টি একই সাথে রাখা হয়েছে। দিন কয়েক আগেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে ‘শহীদ পরিবার’ ও ‘আহত বীর যোদ্ধাদের’ আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় বাংলাদেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না, তাঁদের বিচারের আওতায় আনা হবে না। এটা কোন ধরণের নিরপেক্ষতা, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। যদিও কারা কী ধরনের অপরাধ বা কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি পাবেন তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। ফলে এখানেই রয়েছে আসল কারসাজি। ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছেন, শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য কাঠগড়ায় তোলা হলেও মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সাগরেদরা নিজেদের জন্য একটা সেফগার্ড রাখলেন। জুলাই সনদে ঢালাও দায়মুক্তির সুযোগ রাখা তারই ইঙ্গিত। প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরেই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সহিংস ঘটনার জন্য এর পক্ষে যারা ছিল তাদের কোনও মামলা, গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না- মর্মে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু সদ্য সাক্ষরিত মূল সনদে প্রথমে ‘দায়মুক্তি’ প্রসঙ্গটি রাখা হয়নি। ফলে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে কয়েকশ মানুষ সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। তাঁরা তিন দফা দাবি তোলে, জুলাই সনদ সংশোধন, সনদকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’দের স্বীকৃতি দেওয়ার। এরপরই বাংলাদেশের ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় সংশোধনী এনে ‘দায়মুক্তির’ বিষয়টি সংযোজন করা হয়। এত কিছুর পরও প্রশ্ন উঠছে, মুহাম্মদ ইউনূস দায়মুক্তি পাবেন কি! নাকি ইতিহাসের নিয়মে তাঁকেও আসামির কাঠগড়ায় উঠতে হবে একদিন।












Discussion about this post