বাইরে তখন বেশ অন্ধকার। অথচ ঢাকার সরকারি অতিথিশালা যমুনাভবনে বাতি তখন নেভেনি। মধ্যরাত হবে। একটা এসইউভি এসে থামল যমুনার সদর দরজার সামনে। গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন পাকিস্তান সেনার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারপার্সন জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা। তাঁকে স্বাগত জানাতে বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। একে অপরের চোখে চোখ রেখে করমর্দন। সেই দৃশ্য দেখে স্পষ্ট এটা কোনও সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। গোপনে একটা নীল নকশা তৈরির জন্য নিশিরাতে যমুনাভবন গিয়েছিলেন সেনাকর্তা মির্জা।
এটা কোনওভাবেই ভুলে গেলে চলবে না পাক সেনাবাহিনীতে আসিম মুনিরের পরেই তাঁর স্থান। এমনকী এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে টেকনিক্যালি মুনিরের থেকে কিছুটা হলেও তিনি এগিয়ে। পাকিস্তান সেনার তিনটি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারপার্সনের হাতে। তাঁর সম্পর্কে আরও একটা তথ্য দেওয়া দরকার। তিনি একসময় পাকগুপ্তচর সংস্থার প্রধান ছিলেন। বাংলাদেশের সরকারি ভাষ্যে এই সফর নিয়ে একটা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সাক্ষাতের পর যে কায়দায় সফররত দেশের তরফ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়ে থাকে, এই ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু খবরের অন্তরালেও খবর থাকে। এই প্রতিবেদন সেই অন্তরালের খবর নিয়ে।
আরও একটি বিষয় বেশ নজর কাড়ার মতো। পাক সেনাকর্তা মির্জা বাংলাদেশ গেলেন ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার ঢাকা সফরের পরে পরেই। ব্যাপরটা এমন নয় যে ইউনূসকে অনেকদিন চোখে দেখেননি বলে মির্জা খুব উতলা হয়ে পড়েছিলেন। মানে অন্তরাত্মা শুকিয়ে গিয়েছিল। এটাও নয় যে বহু বছর বাংলাদেশের ইলিশ খেতে পারেননি। তাই, ইলিশ খাওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ যান। ইলিশ যদি খাওয়ার ইচ্ছাই হবে, তাহলে তো তিনি দিনেই যেতে পারতেন। একেবারে চোরের মতন রাতে কেন তাঁকে যমুনায় যেতে হল ? খটকা এখানেই?
সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই সফর সৌজন্য সফর নয়। এটা আসলে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ এবং একটি নতুন যুগের সূচনা। ’ পাকিস্তান একসময় আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে গিয়েছে। এবার তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশ। পাকিস্তান চাইছে এমন একটা শক্তির বলয় তৈরি করতে যে বলয় দিল্লিকে রীতিমতো চাপে ফেলে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখন গুলি বন্দুকের পাশাপাশি অন্য একটা কৌশল নিয়েছে। সেই কৌশল হল ‘ফ্রন্ট উইদাউট ফায়ার’। এটা একটা মঞ্চ, যে মঞ্চে পাকিস্তান আহ্বান জানাবে সেই সব দেশকে যারা বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের বন্ধু হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ তাঁর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই সফর এবং তদারকি সরকারের তরফ থেকে পাকসেনাকর্তাকে দেওয়া বই নিয়ে ভারতের একটি ইংরেজি দৈনিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়েছে, ‘মানচিত্রে বাংলাদেশের সীমানা এমনভাবে অঙ্কিত যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে অসম এবং ত্রিপুরার সঙ্গে এক প্রতীকী সংযুক্তি। ’ বাংলাদেশ নিয়ে সম্প্রতি যে সব প্রতিবেদন লেখা হয়েছে, সেখানে ইউনূস সম্পর্কে বলা হয়েছে ভদ্রলোক শত হলে প্রাক্তন ব্যাংক কর্মী। তাই, হিসেব করে পদক্ষেপ করেন। ব্যাংকের ক্যাশিয়ারবাবু মাঝেমধ্যে নগদ মেলাতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেন। ইউনূসও সেটা করেছেন। পরে অবশ্য হিসেব মিলিয়ে দিয়েছেন।












Discussion about this post