প্রতিবেদন শুরু করা যাক হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে। সরকার পরে যাওয়ার পরে পরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা হারানো ভাইকে ফিরে পেয়েছি।’ হারানো ভাই মানে পূর্বপাকিস্তান।
একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রীতির সম্পর্ক তৈরি হয়। সে সে দেশের বিভিন্ন দফতরের সচিব থেকে শুরু করে সামরিক কর্তারা ঘন ঘন বাংলাদেশ যেতে শুরু করেন। সম্প্রতি সে দেশ সফর করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রথম সারির দ্বিতীয় শক্তিশালী সেনাকর্তা ‘জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা। এই ১৫ মাসে পাকিস্তান সরকারের চার মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। এই সদ্ভাবের কারণ হয়েছে। বাংলাদেশে এমন একটি সরকার রয়েছে যে সরকার ভারত বিরোধী এবং পাকিস্তানপন্থী। ইসলামাবাদ এই সুযোগে সদ্ব্যবহার করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর জেনালের সাহির শামসাদ মির্জার ঢাকা সফর তো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে সে দেশের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক অনেকটাই হরিহর আত্মার মতন। তিনি মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই প্রতিবেদন তাঁকে নিয়ে নয়, তাঁর এবং ইউনূসের একটি ছবি নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, ‘জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের সঙ্গে করমর্দন করছেন। কিন্তু তাঁর মাথায় বাহিনীর টুপি, ধরে রয়েছেন প্রতীক লাঠি। এই ছবি জন্ম দিয়েছে একাধিক প্রশ্নের? প্রথম প্রশ্ন বাংলাদেশের তদারকি সরকার যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেই সরকারের প্রধান কিন্তু ইউনূস। প্রোটোকল বলছে, ভিন দেশের বাহিনীর কোনও কর্তা একটি দেশের সরকার প্রধান, সে সরকার তদারকি সরকার হতে পারে। তার সঙ্গে বাহিনীর কোনও কর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মাথায় সেনাটুপি থাকবে না। এমনকী মির্জা যেভাবে হাতে লাঠি ধরে ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, প্রোটোকল অনুযায়ী, তিনি সেটা করতে পারেন না। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী পাকিস্তান সেনার ‘জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যান এটা ভেবে নিয়ে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন যে বর্তমান বাংলাদেশ আসলে তাদের একটা প্রদেশ? এটাও ধরে নিয়ে কি তিনি ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন যে বাংলাদেশকে আসলে ইউনূস চালাচ্ছে না, চালাচ্ছে পাকিস্তান।
আর সেনাকর্তাকে তিনি একটি বই উপহার দেন, যে বইয়ের শিরোনাম ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’। ইউনূস এর আগে এই বই বহুজনকে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে। তবে সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, পাক সেনাকর্তা জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জাকে তিনি যে বইটি তুলে দিয়েছেন, সেটা নতুন সংস্করণ। সেই বইয়ের প্রচ্ছদে যে মানচিত্রে দেখানো হয়েছে বহুদিন ধরেই চরমপন্থী ইসলামি দলগুলি ‘বৃহত্তর বাংলাদেশে’র অংশ হিসেবে এই রাজ্যগুলিকে নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এবার সেই প্রচারের আগুনে এই ছবি ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। এই বই প্রসঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, এটা শিল্পীর অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি নয়। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। এটা উপহার তুলে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে একটা বার্তা দেওয়া হল যে পাকিস্তান সেনা এবং বাংলাদেশ সেনার মধ্যে আঁতাত তৈরি হয়েছে। যা এখন ওপেন সিক্রেট।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post