সম্প্রতি পাকিস্তান সেনার ‘জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। তার এই সফর ঘিরে কৌতুহল তৈরি হয়। আচমকা তিনি কেন বাংলাদেশ গেলেন? শনিবার রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় তিনি বৈঠক করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। এই বৈঠক ঘিরেই তৈরি হয় কৌতুহল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দুইয়ের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারি ভাষ্যে এই বৈঠকের খবর দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক স্তরের নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুইজনে সহমত পোষণ করেন। ইউনূস বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। উভয়েই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়ো খবর এবং তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে তারা মত বিনিময় করেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অতীতে হিন্দু নির্যাতন ও নিপীড়ন নিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সেখানকার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম, যারা ইউনূস বিরোধী বলেই পরিচিত, তারা এই খবর প্রকাশ করে। তদারকি সরকার প্রধান ওই সব খবরকে ভূয়ো বলে জানিয়ে দেন। পাক সেনাকর্তাদের বৈঠকে ভারতের নাম না করেও ফের ওই প্রসঙ্গ তোলা হয়। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘পাক সেনাকর্তা ইউনূসকে বলেন, আমাদের দুই দেশ একে অপরকে সমর্থন করবে।’
এই বয়ানের পিছনে যাকে বলা হয় পর্দার পিছনে রয়েছেন অন্য তথ্য। তার একটি অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। পাক জেনারেল সাহির শামসেদ মির্জাকে তদারকি সরকার প্রধান একটি বই উপহার দিয়েছেন। সেই বইয়ের শিরোনাম ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’। বইয়ের প্রচ্ছদে যে মানচিত্র রয়েছে, সেখানে দেখানো হয়েছে ভারতের অসম এবং অন্যান্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি বাংলাদেশের অংশ। ইউনূস তাঁর এক্স হ্যান্ডেলেও এই বৈঠকের ছবি পোস্ট করেন। ওই বৈঠক এবং বই উপহার জন্ম দিয়েছে কূটনৈতিক বিতর্কের। বহুদিন ধরেই চরমপন্থী ইসলামি দলগুলি ‘বৃহত্তর বাংলাদেশে’র অংশ হিসেবে এই রাজ্যগুলিকে নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এবার সেই প্রচারের আগুনে এই ছবি ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাহির শামসাদ মির্জার হাতে ১০টি গোপন তথ্য তুলে দিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান। সেই ১০টি তথ্যের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে কোথায় কোথায় তালিবান শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে, সে দেশে কোথায় কোথায় তারা শিবির করেছে, পাক সেনাকর্তাকে সেই সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। হাসিনা আমলে যে সব দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, সেই সব চুক্তির তথ্য হস্তান্তর করেছেন। দেশের কোথায় জিহাদি প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করা হয়েছে, সেই তথ্য তাঁর হাতে তুলে দেন ইউনূস। আরও একটি চাঞ্চল্যকর খবর হল, ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসে আইএসআই একটি সেল খুলেছে।












Discussion about this post