ধাক্কা বললে কম বলা হবে। ভূমিকম্প শব্দ এই ক্ষেত্রে বেশ প্রযোজ্য।
ধাক্কা দিলেন এম সারওয়ার হোসেন। সারওয়ার হোসেনের পরিচয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে ১৫ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে সেই মামলা থেকে তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সরে দাঁড়িয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘যে ১৫ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গুম, গুমখুন সহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের হয়ে আমি আদালতে সওয়াল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি এই মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, বার কাউন্সিলের নিয়ম হল কোনও আইনজীবী যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, তাহলে তিনি আদালতে সওয়াল করতে পারেন না। ’
যদিও এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রবল সমালোচনা। গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানির সময় তিনি আদালতে সওয়াল করতে উঠলে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ট্রাইব্যুনাল ও গুম কমিশনে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব) এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সহ প্রাক্তন তিন সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে সারওয়ার হোসেন নিজেই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। একসময় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ছিলেন। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তাকে নিয়োগ করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন এই ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন।
বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যম তাঁর সঙ্গে এই প্রসঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘পেশাগত নীতি নৈতিকতার কারণে এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ হাসিনা আমলে গুম গুমখুন সহ একাধিক মানবতা-বিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মরত এবং প্রাক্তন সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের হয়। তার জন্য গঠিত হয় আইনজীবীদের একটি প্যানেল। সেই প্যানেলের প্রধান মুখ ছিলেন এম সারওয়ার হোসেন।
প্রশ্ন হল, কী এমন হল যার জন্য তিনি এই মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলেন? গত ২৪ অক্টোবর এই মামলার শুনানি শেষে ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন আদালত প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারা নির্দোষ। তিনি সজ্ঞানে একটি শব্দ বন্ধনীর উল্লেখ করেন। ব্যারিস্টার বলেন, এই মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে তিনি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট অর্থাৎ স্বার্থের সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন।
ব্যারিস্টার সারওয়ার হোসেন এই আদালতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এস এম সফিউদ্দিন। যার অর্থ দাঁড়ায় তিনি এই মামলার বাদি পক্ষ। যে মামলার তিনি বাদি, আবার সেই মামলার তিনি আসামীপক্ষের আইনজীবী। সংঘাত এখানেই। সারওয়ার হোসেন যে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের কথা বলছেন, সেটা এটাই। আর সে কারণের আদালতে তিনি যখন সওয়াল করতে ওঠেন, সেই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ছিঃছিক্কার। ব্যারিস্টার সারওয়ার হোসেনের কান সেটা গিয়েছে। তাছাড়া আইনি প্যাঁচেও তিনি পড়ে গিয়েছেন। তাই, এই মামলা থেকে তঁর সরে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা ছিল না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post