গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এখন আবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশকে ঘিরে। গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন এবং ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশেক পররাষ্ট্রনীতি ঘুরে গিয়েছে ১৮০ ডিগ্রি। হাসিনার আমলে বাংলাদেশ ঝুঁকে ছিল ভারতের দিকে। আর ইউনূস কাঁটা ঘুরিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের দিকে। ফলে স্বভাবতই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হয়েছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে কোন দেশ কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে সেটা সম্পূর্ণ তাঁদের বিষয়। কিন্তু সমস্যা হল বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান। কারণ, প্রতিবেশী দেশটির অবস্থান কার্যত ভারতের পেটের ভিতর। তিন দিক থেকেই ভারত বেষ্টিত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। ফলে বাংলাদেশে কোনও প্রকার রাজনৈতিক অস্তিরতা, বিপথগামীতা ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটাই হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পর থেকে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রবলভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ইসলামিক চরমপন্থা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলও অনেকটা ভারতবিরোধী। ঢাকা পাকিস্তানের পাশাপাশি চিন, তুর্কির মতো দেশগুলিকে কাছে টানছে, যাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একেবারেই ভালো নয়। আরও বড় বিষয় হল, বাংলাদেশ এখন তাঁদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। যদিও আর্থিকভাবে বেহাল বাংলাদেশের অত্যাধুনিক ফাইটার জেট, ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রেডার কেনার অর্থ কোথা থেকে আসবে সেটাই কেউ জানে না। জানা যাচ্ছে, ইউনূস সরকার চিন থেকে ২০টি জে-১০সি মাল্টিরোল ফাইটার জেট কিনতে চলেছে। এর জন্য খরচ হচ্ছে ২.২ বিলিয়ন ডলার। উল্লেথযোগ্য বিষয় হল, এই ফাইটার জেট কেনা হলে পাকিস্তান, চিন ও বাংলাদেশ একই প্রযুক্তি ছাতার নীচে চলে আসবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইতালি থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ইতালি থেকে ১০টি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার পরিকল্পনা করেছে। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ইতালি গিয়ে ইউরোফাইটার টাইফুন উড়িয়ে টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছেন। আর এই চুক্তি হতে পারে আসন্ন ডিসেম্বর মাসেই। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, পাক-ভারত ও চিন-ভারত সীমান্তে চলমান উত্তেজনা এবং মায়ানমারের বর্তমান সংকট মাথায় রেখে বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ জরুরি। বাংলাদেশেরও নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তাই সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজ।
তবে ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁরা সেই বিতর্কিত মানচিত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন। ইসলামিক কট্টরপন্থীদের দখলে থাকা এই অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে একটা শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যমে অখণ্ড বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইউনূসের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ক্রমাগত হুমকি সেই লক্ষ্যেরই অঙ্গ। যদিও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, নরেন্দ্র মোদি ভারতের মানচিত্র বদলের চিন্তাভাবনা করছেন। আর কেন্দ্রের গ্রীণ সিগনাল পেয়ে সেই কাজও শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অপারেশন সিঁদূর ছিল প্রাথমিক পর্যায়। এবার পরবর্তী পর্যায়ের জন্য ঝাঁপানো হবে। তাই চলছে লাগাতার যুদ্ধ মহড়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পালা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দখল নেওয়া, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের দখল নেওয়া এবং ভারতের চিকেন নেককে আরও চওড়া করার পরিকল্পনা রয়েছে মোদি সরকারের। এমনটাই মনে করছেন একাধিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ। আর সেই কাজ অচিরেই শুরু হবে। তার আগে, কূটনৈতিক ও সামরিক দুই দিকেই চলছে প্রস্তুতি।












Discussion about this post