বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে ভোট হবে বলে ঘোষণা করেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। তবে ভোট কবে হবে, সে ব্যাপারে সরকারের থেকে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি। এমনকী সরকারের উপদেষ্টারাও ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে কিছুই বলতে চাইছেন না। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে কি আদৌ ভোট হবে। এই রকম গুঞ্জন নিয়ে যখন গুঞ্জন, সে সময় জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন কোনও কারণে নাও হতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ জুলাই সনদকে অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। বুধবার, ২৯ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমনওয়েলথের ইলেক্টোরাল সাপোর্ট শাখার উপদেষ্টা এবং প্রি ইলেকশন অ্যাসেসমেন্টের প্রধান লিনফোর্ড অ্যাড্রুজের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দিনুষা পণ্ডিতরত্ন, ন্যান্সি কানিয়াগো, সার্থক রায়, ম্যাডোনা লিঞ্চ। জামাতের পক্ষ থেকে তাহের ছাড়াও ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক এটি এম মাছুম, দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ।
প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। বাংলাদেশের ভোট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই নিয়ে তাঁর আশঙ্কার কথা জানান। তাহেরের কথায়, জুলাই সনদের জন্য বহু টাকা খরচ করা হয়েছে ঠিকই। তারপরেও বলতে হচ্ছে, এর জন্য গণভোটের প্রয়োজন এবং সেটা জাতীয় নির্বাচনের আগেই করত হবে। এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূ্র্ণ। এর সঙ্গে উচ্চকক্ষে পিআর-য়ের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর আশা নভেম্বরের শেষের দিকে গণভোট হতে পারে। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কেন ভোট না হওয়ার আশঙ্কা করছেন, তার একটা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসিনার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হাসিনা রয়েছেন ভারতে। দলের প্রথম সারির নেতাকর্মীদের অনেকেই ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। বিএনপির খালেদা জিয়া অসুস্থ। পুত্র তথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন তিনি দেশে ফিরবেন। দলকে পিছন দিকে থেকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন নেতা, যাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তেমন নেই বললেই চলে। এদিকে আবার জাতীয় পার্টি যাতে নির্বাচন অংশ নিতে না পারে, তার জন্য ইউনূস এবং তাঁর সরকারের ওপর লাগাতার চাপ দিয়ে চলেছে। অপর দিকে হাসিনা এবং তাঁর দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য পালটা চাপ আসছে। বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যাতে ভোট নিয়ে আর কোনও উচ্চবাচ্য না করে, তার জন্য তদারকি সরকারের তরফ থেকে একটা ঘোষণা করা হল। এদিকে আবার এনসিপি জানিয়ে দিয়েছে, শাপলা প্রতীক না দেওয়া হলে, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না।
আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করার মতো। ফেব্রুয়ারিতে যদি ভোট হবে, তাহলে খসড়া কবে প্রকাশিত হবে? হাতে আর মাত্র কয়েকটা মাস। এদিকে, হাসিনা পুত্র জয় জানিয়ে দিয়েছে, তদারকি সরকার শেষ মুহূর্তে দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে তা অর্থহীন হবে। কারণ, তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারবে না। পাক সেনাকর্তাদের বাংলাদেশ সফর ঘিরেও এখন নানা প্রান্ত থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটা মহল থেকে বলা হচ্ছে, পাক সেনাকর্তাদের হাতে ইউনূস সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দিয়েছেন। যদিও কী সেই নথি তা এখন সুস্পষ্ট নয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post