গোটা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডল বেশ তপ্ত। সেটা এতটাই যে হিমালয়ের হিমেল হাওয়াতেও হিমের রেশ নেই। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে যাবে, কেন এই অ়ঞ্চলের বাতাস আচমকাই গরম হয়ে উঠল? তার জন্য বিশেষভাবে দায়ী বাংলাদেশ। তাদের দোসর হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পিনপতন নিস্তব্ধতা। সব জায়গার নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। এই অবস্থায় সে দেশ সফর করে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল। ঢাকার তরফ থেকে এই সফরকে বলা হচ্ছে সৌজন্য সাক্ষাৎ। কূটনৈতিকমহলের মতে সাউথব্লক থেকে উত্তরপাড়া এবং যমুনাকে একটা বার্তা দেওয়া হল। গোদা বাংলায় – বেশি বাড়াবাড়ি করলেই মুশকিল।
ওদিকে বাংলাদেশ সেনানিবাসে চলছে ঘন ঘন বৈঠক। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান তাঁর বিদেশ সফর বাতিল করেছেন। বাহিনীতে ঘটিয়েছেন রদবদল। তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী আটক কক্ষ। ওয়াকারের সফর বাতিল এবং বাহিনীর আচমকা ক্ষিপ্রতা ইঙ্গিত দিচ্ছে সেখানে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। এদিকে, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই সফরের সঙ্গে কি জড়িয়ে আছে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের যুদ্ধের প্রসঙ্গ?
আফগানিস্তানের আকাশে এখন কালো ধোঁয়া। কাবুল ইসলামাবাদের ওপর পালটা আঘাত করেছে। সীমান্তের ওপারে হিন্দুকুশ পর্বতে প্রহরারত আফগান সেনারা পেয়েছে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র রাশিয়ান ইগলা রকটে লঞ্চার। তাদের লক্ষ্য একটাই – হামলা যে প্রান্ত থেকে এসেছে পালটা হামলা হবে সেই প্রান্তেই। তারা ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জে এফ সেভেন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, হামলা হলে হামলা হবে। তাদের হাতে এই অস্ত্র কে তুলে দিল? একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে পাক সেনাপ্রধান আসিফ মুনির আর কোনও উপায় না পেয়ে তিনি রিয়াদের প্রাসাদে ফোন করেন। রাজ প্রাসাদ থেকে মুনিরকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাদের পছন্দ সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ। উভয় দেশ শান্তি বজায় রাখুক।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি যান তাজিকিস্তানের খার খড় ঘাঁটি। এই জায়গা থেকে খুব সহজে দেখা যায় আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডোর। কেন তিনি সেখানে গেলেন। এই অবস্থায় কাবুল প্রশাসন দিল্লির সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে তালিবানকে দিল্লি একদম পছন্দ করত না, তারা এখন অন্যতম মিত্রশক্তি হয়ে উঠেছে। দিল্লি এখন পুরনো ফর্মুলায় চলছে – শত্রুর শত্রু আমার মিত্র। পাকিস্তান আর কাবুল এখন একে ওপরের শত্রু। তাই, ইসলামাবাদকে জব্দ করতে তারা দিল্লির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আলোচনার কেন্দ্র বাগ্রাম বায়ুসেনা ছাউনি। কাবুল এই বিমানবন্দর মানবিক স্বার্থে ব্যবহারের করতে চায়। দরকার পুনর্গঠন। সেই কাজ করবে দিল্লি। পাকিস্তান ও আমেরিকা এতে বিপদের গন্ধ পাচ্ছে। পাকিস্তানে যখন অস্থিরতা চরমে, সেই সময় বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এই অবস্থায় ঢাকায় প্রবেশ করল ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার একটি প্রতিনিধিদল। চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে সাউথ ব্লক তাদের উদ্বেগ জানিয়ে দেয়। প্রশ্ন উঠছে, সেখানকার জল মাপতেই কি তারা ঢাকা গিয়েছিল?
এদিকে, বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রভাব। এই অবস্থায় ভারত চুপ করে থাকবে না। সেটা জানাতেই সেনা গোয়েন্দাদের একটি উচ্চপর্যায়ের দলকে সে দেশে পাঠানো হয়।












Discussion about this post