ইতিহাস বদলের পথে বাংলাদেশ? সে দেশের ইউনূস সরকারের সাম্প্রতিক কাণ্ডকারখানা দেখে অন্তত সেই কথাই বলছেন কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। কারণ, একাত্তরের ‘শত্রু’দের আরও কাছে টেনে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে মরিয়া ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, এবার ঢাকায় রীতিমতো দফতর খুলতে চলেছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এমনকি সদ্যই এই ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। জানা যাচ্ছে, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন চত্বরে এই কার্যালয় খোলার সম্ভাবনা। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ-সহ উত্তরপূর্ব ভারতের স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করতে আইএসআই উঠেপড়ে লেগেছে, আর তাতে সাথ দিতে যা করার সেটা করছে ইউনূস সরকার। বিষয়টি যে ভারত হালকাভাবে নেয়নি, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর মহড়ার জন্য নোটাম জারি করা হয়েছে। আর এই নোটাম ছয় দিনের জন্য জারি করা হয়েছে। এই সময়কালে ভারতীয় সেনাবাহিনী চিন, ভুটান, মায়ানমার এবং বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে একটা বৃহৎ সেনা মহড়া পরিচালনা করবে। যেমনটা চলছে ভারতের পশ্চিম প্রান্তে পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া বিস্তৃর্ণ এলাকায়।
ভারত এবার বড়সড় কোনও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, এমনটাই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়টি আরও উস্কে দিয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাৎসায়ন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে ভারতের তিন প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থা সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি আমরা প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছি।
বাইট – সঞ্জয় ভাৎসায়ন, ভাইস অ্যাডমিরাল-নৌবাহিনী
গুজরাট উপকূল লাগোয়া স্যর ক্রিকে ভারতের তিন বাহিনীর বিরাট যৌথ মহড়া, অপারেশন ত্রিশূল শুরু হয়েছে। আর যা দেখে রীতিমতো পা কাঁপছে পাকিস্তানের। এই যৌথ মহড়া গুজরাট উপকূলে কচ্ছের রন এলাকা ছাড়াও আরব সাগরের একটা বড় অংশ এবং রাজস্থানের মরু অঞ্চলে চলবে ৩০ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। সেখানে একযোগে ভারতের সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা এবং নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করছে। ভারতের এই বিরাট এই মহড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পাকিস্তানের অবস্থা এমনই, তাঁরা ভয়েই নিজেদের এয়ারস্পেস বন্ধ করে বসে আছে। তবে ভারত সরকার যে কেবলমাত্র পাকিস্তানকেই বার্তা দিতে চাইছে তা নয়। এবার বাংলাদেশকেও বার্তা দিতে উঠে পডে লেগেছে নয়া দিল্লি। কারণ, আগামী ৬ নভেম্বর থেকে আাগমী বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬টি আলাদা আলাদা তারিখে নোটাম জারি করা হয়েছে বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তৃর্ণ এলাকায়। অর্থাৎ, ভৌগলিক দিক থেকে এই অঞ্চল পুরোপুরি বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। ভারতের পূর্ব প্রান্তে পরবর্তী ৬টি মহড়াতেও ভারতীয় সেনার তিন বাহিনী অংশ নেবে বলেই জানা যাচ্ছে। এই তারিখগুলি হল, ২০২৫ সালের ৬ ও ২০ নভেম্বর, ৪ ও ১৮ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১ ও ১৫ জানুয়ারি। তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের ১২ দিনের ত্রি-সেনা সামরিক মহড়া ‘ত্রিশূল ২০২৫’-এর উদ্বোধনের মাঝেই এই নতুন নোটাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হল।
বিগত কয়েকমাসে ভারতের তিনবাহিনী একাধিক যুদ্ধমহড়া চালিয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনী মরুভূমি অঞ্চলে “বায়ু সমন্বয়-II” সফলভাবে পরিচালনা করেছে। এখানে চ্যালেঞ্জিং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন অপারেশনের ক্ষমতা পরীক্ষা করা। অন্যদিকে, পূর্ব ভারতে, বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্ত এলাকায় অপারেশন তিস্তা বিজয় মহড়া চালিয়েছিল ভারতের স্থল সেনা। আবার বৃহস্পতিবার থেকে ভারত পাকিস্তান সীমান্তে ১২ দিনের তিন-সেনার সমন্বয়য়ে সামরিক মহড়া ‘ত্রিশূল’ শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশাল এলাকায় যে কারণে নোটাম জারি হল, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। জানা যাচ্ছে, এই মহড়ায় আকাশ থেকে আকাশে যুদ্ধ, আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা এবং গোয়েন্দা অভিযান সহ বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাহলে কি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পুনর্দখলের পাসাপাশি পূর্ব প্রান্তের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর এলাকা চওড়া করার পরিকল্পনাও সেরে রেখেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার? ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।












Discussion about this post