ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এর আগে মহড়া হয়েছে এবং বর্তমানেও চলছে। এরমধ্যেই আবার নতুন করে যুদ্ধ মহড়ার জন্য নোটিশ টু এয়ারম্যান বা নোটাম জারি হল পূর্ব ভারতে। অর্থাৎ, এবার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরে যুদ্ধ মহড়া চালাবে ভারত। তাই বাণিজ্যিক বিমান ও জাহাজ চলাচলের অসুবিধা হতে পারে বলে এই নোটাম জারি করেছে ভারত। বিশাল আকারের মহড়ায় যেহেতু যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজগুলির পাশাপাশি ঘাতক ড্রোনও সামিল থাকবে, তাই আগাম সতর্কতার জন্য নোটাম জারি করতে হয়। এতে আন্তর্জাতিক রূটে চলাচলকারী বিমান ও জাহাজগুলি এই অঞ্চল এড়িয়ে চলতে পারে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি এমন করতে চাইছে যে এত ঘনঘন বিস্তৃর্ণ এলাকায় নোটাম জারি করে যুদ্ধঅভ্যাস চালাচ্ছে? তাহলে কি ভারত কোনও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি অপারেশন সিঁদূর-২.০ শুরু করতে চলেছে? প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক মহলে এখন এটাই একমাত্র চর্চার বিষয়।
এবার একটা গল্প বলি, ধরুণ ভারতের কোনও এক বিদ্রোহী চরমপন্থী গোষ্ঠী ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র এঁকে তাতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলাকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখিয়ে দিতেন। আর সেই মানচিত্র যদি কোনও পুস্তিকার প্রচ্ছদে ছেপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশী কোনও রাষ্ট্রপ্রধান বা সেনা কর্তার হাতে হাসিমুখে তুলে দিতেন, তাহলে কি বার্তা যেত বাংলাদেশের কাছে? সে দেশে কোনও প্রতিক্রিয়া তৈরি হতো না? ঠিক একই কাজ করছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনাকর্তা জেনারেল সামশাদ মির্জার হাতে বাংলাদেশের এক বিতর্কিত ম্যাপ সম্বলিত ছবির বই তুলে দিলেন, যেখানে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বাংলাদেশের অংশ বলে দেখানো হয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করেছে, এটা ছাত্রদের আঁকা ছবি, এতে বিতর্কের কিছু নেই। ভারত সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বড় বার্তা দিতে চাইছে, তাও আবার নিঃশব্দে। সেটা কি রকম?
মায়ানমার, ভুটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে চলবে বিশাল এক সামরিক মহড়া। ভারতের সশস্ত্র বাহিনী এবং ভারতীয় বায়ুসেনা একসঙ্গে এই মহড়া চালাবে। আকাশে উড়বে রাফাল, সুখোই, তেজস যুদ্ধবিমান ও একাধিক ঘাতক ড্রোন। পথে নামবে সশস্ত্র বাহিনীর সবথেকে ভয়ঙ্কর ট্যাঙ্ক, মিশাইল কেরিয়ার, রকেট লঞ্চার। পাশাপাশি ভূমি থেকে আকাশে ছোড়া মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও হবে। জানা যাচ্ছে, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম ধাপের মহড়া হবে ৬ ও ২০ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপের মহড়া হবে ৪ ও ১৮ ডিসেম্বর। শেষ ভাগের মহড়া হবে ২০২৬ সালের ১ ও ১৫ জানুয়ারি।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হল, সীমান্তজুড়ে প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। এতে উত্তর-পূর্বের সব এয়ারবেস ও ফ্রন্টলাইন স্কোয়াড্রন অংশ নেবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই বড় মাত্রার মহড়ার প্রয়োজন হচ্ছে ভারতীয় সেনার। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বিগত ১৫ মাসে বাংলাদেশ একেবারেই পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পন করেছে। একদিকে যেমন ঘনঘন পাকিস্তানী সেনাকর্তারা বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন, তেমনই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে একাধিক কর্মকর্তা ভারতের উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্য নিয়ে হুমকি দিয়ে চলেছেন। এবার জানা যাচ্ছে, ঢাকায় পাকাপাকি ভাবে দফতর খুলছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাঁদের ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন চত্বরে একটি জায়গাও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ উত্তরপূর্ব ভারতের স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করতে আইএসআইকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ভারতীয় গোয়েন্দারা। ভারতের প্রায় নাকের ডগায় পাক গোয়েন্দাদের উপস্থিতি যে ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদকে ফের উসকে দেবে তাতে কারও সন্দেহ নেই। এমনকি যে কোনও সময় ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল এবং অতি সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের উপর হামলাও হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই এটাকে স্বাভাবিক যুদ্ধমহড়া না দেখে, পুরোদস্তুর যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেই দাবি, ওয়াকিবহাল মহলের। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রংপুর বা চট্টগ্রাম ভারতের অংশ হলেও অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post