প্রায় ১৫ মাস হতে চলল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল। ওই সময়ই নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দুই দেশের ট্রেন চলাচল। জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই তুমুল বিক্ষোভের মাঝেই মিতালী এক্সপ্রেস ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছিল। ১৯ জুলাই ট্রেনটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা ছিল। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। একইভাবে নিরাপত্তার অভাবে ঢাকা-কলকাতা রুটে চলা মৈত্রী এক্সপ্রেস ও খুলনা-কলকাতা রুটে চলা বন্ধন এক্সপ্রেস ১৯ জুলাই থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে দুই পড়শি দেশের মধ্যে চলাচলকারী তিনটি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। যারা টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের সমস্ত টাকাই ফেরত দিয়েছে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ। জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী এই তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন পুনরায় চালুর জন্য চিঠি দিয়েছে নয়া দিল্লিকে। কিন্তু কোনও চিঠিরই জবাব দেয়নি ভারত সরকার।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুত, ভারতের সম্মতি পাওয়া গেলে যে কোনও সময় ট্রেন চালাতে পারবে। একটি নয়, এই মর্মে দুটি চিঠি ঢাকা থেকে দিল্লি এসেছে। কিন্তু কোনওটারই জবাব দেয়নি নয়া দিল্লি। সূত্রের খবর আগামী মাসে দু’দেশে রেল মন্ত্রকের কর্তাদের মধ্যে একটা সমন্বয়ে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানেও মৌখিকভাবে এই ট্রেনগুলি চালানোর বিষয়ে ভারতীয় রেলকর্তাদের আবেদন জানাতে পারে বাংলাদেশের রেল কর্তারা। প্রয়োজনে আবারও চিঠি দিতে প্রস্তুত ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ভারতের মনোভাবে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই ট্রেনগুলির চাকা খুব শীঘ্রই গড়াবে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলেও কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে, আচমকা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করার ব্যাপারে এতটা উদ্যোগী কেন হল ইউনূসের সরকার। ঠিক কি উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রেন চালানোর বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস!
বাংলাদেশ রেলওয়েের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী চিঠিপত্রের পর ভারতের রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুমতি না মিললেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটাই সন্দেহের উদ্রেক করছে ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ভারত। যদিও গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পরই ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছিল। পরে মেডিকেল ভিসা ও পড়ুয়াদের জন্য ভিসা চালু করা হয়। তবুও তা খুবই সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি ভিসার পরিমান কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলেই খবর। কিন্তু পর্যটন বা অন্যান্য ভিসা এখনও দেওয়া হচ্ছে না। তাই ট্রেন চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। রেল সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এক একটি ট্রেনে শতাধিক যাত্রী টিকিট কাটতে পারেন। যেহেতু ভিসা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু ট্রেনে এত যাত্রী পাওয়া যাবে না। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এই ট্রেনগুলি চালালে। এই যুক্তিতেই ট্রেন চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে না রেল বোর্ড। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর পিছনে অন্য কারণও রয়েছে।
ভারত প্রথম থেকেই আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে যাচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তাঁরা মান্যতা দিচ্ছে না। ভারত প্রথম থেকেই বলে আসছে, দ্রুত অবাধ, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন করিয়ে একটা স্থায়ী সরকারের গঠন হোক বাংলাদেশে। তারপর যারা ক্ষমতায় আসবে, তাঁদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের বহু দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত চিঠির কোনও জবাবই দেয়নি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। আবার একটি অংশের বক্তব্য, ট্রেন চালু হলে ভারতে জিহাদি কার্যক্রম চালু করা সহজ হয়ে যাবে বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের পক্ষে। অনেকেরই পাসপোর্ট-ভিসা রয়েছে। কিন্তু ঘুরপথে বা বিমানে তাঁরা ভারতে আসতে পারছেন না। কিন্তু ট্রেনে তাঁরা খুব সহজেই ভারতে যাতায়াত করতে পারবেন। অন্যদিকে, ওয়াকিবহাল মহলের একটি অংশের দাবি, দ্বিমুখী নীতি নিয়ে চলা ইউনূসের সঙ্গে সম্পর্কই রাখতে চাইছে না ভারত। বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে “দিল্লির দাসত্ব” আখ্যা দিয়ে সকল চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছিল। এর মধ্যে বহু চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশে চলা একাধিক রেল প্রকল্পও কার্যত স্থগিত রেখেছে ইউনূস সরকার। তাই মিতালি, মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস চালানোর দাবিও মানতে নারাজ ভারত। ফলে এই তিনটি ট্রেন আগামী বছরের আগে চালুর সম্বাবনা নেই বললেই চলে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post