বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পাবনা যাওয়ার কথা ছিল। সেখানেই তাঁর বাড়ি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম তিনি পাবনা যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে সে দেশের একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে এই সফর বাতিল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এই খবর লেখা পর্যন্ত সে সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
পাবনার সম্ভাব্য সফর নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর তাঁর দফতর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, সেখানে সই রয়েছে তাঁর প্রোটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎ ফরের। বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়, এটা তাঁর সরকারি সফর। সফরসূচি ছিল এরকম – বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা থেকে তিনি হেলিকপ্টারে করে পাবনা পৌঁছাবেন। সেখানে জেলা সার্কিট হাউজে তাঁকে দেওয়া হবে গার্ড অব অনার। সার্কিট হাউজেই রাত্রিবাস। পরের দিন ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর যাবেন আরিফুরে। সেখানে শায়িত আছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারপর দেখা করবেন পরিবার পরিজনদের সঙ্গে। সেখান থেকে তিনি রাতে সার্কিট হাউজে ফিরবেন। সেখানও তিনি আরও এক দফায় তাঁর আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে দেখা করবেন। রাতে সেখানে তিনি থাকবেন। সফরের শেষ দিন রবিবার ৯ নভেম্বর তাঁকে সার্কিট হাউজে দেওয়া হবে গার্ড অব অনার। পরে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকা ফিরবেন। যদিও সফর বাতিল করতে হয়েছে। সফর বাতিল করতে হয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ওমরাহ সফর।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের ওই গণমাধ্যম থেকে বলা হয়েছে, তিনি এবং বাহিনীর বাকি দুই প্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি নিবাসে বৈঠক করেন তদারকি সরকার উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এই সফর ঘিরে নতুন করে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, যার জন্য যমুনাভবনে ড. ইউনূস বাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে তাঁকে বৈঠক করতে হল?প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পাবনা সফর নিয়েও। কারণ, গত ১৫ মাসে তিনি একবারের জন্য পাবনা যাননি। তাহলে হঠাৎ তিনি পাবনা যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। পরে সেই সফর আবার বাতিলও হওয়ার পথে। এদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার তিনটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। তার আগে হাসিনা পুত্র জয়ের একটা সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে হচ্ছেটা কী?
সূত্রের খবর, তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধানের বৈঠক পূর্বনির্ধারিত নয়। আর এই বৈঠকের পর যে সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়েছে, সেটাও কম কৌতুহল তৈরি করছে না। সরকারিভাষ্যে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ড. ইউনূস বাহিনীর তিন কর্তাদে সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে পুলিশের। ক্ষেত্র বিশেষে সেনার হাতে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। যমুনায় তদারকি সরকার প্রধানের বৈঠকে পুলিশের তরফ থেকে কাউকে দেখা গেল না কেন? ওয়াকার-উজ-জামানের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। সেই সফরও বাতিল হয়েছে। একটার পর একটা বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ রীতিমতো উৎকণ্ঠায় রয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছে বাংলাদেশে যে কোনওদিন বড় ধরনের অঘটনা ঘটতে পারে। সেই অঘটন হয়তো দেশের রাজনীতির পুরো চিত্রটাই বদলে দেবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post