বাংলাদেশে কী পরিবর্তন আসন্ন?
একেবারে সরাসির হ্যাঁ বলা না গেলেও বেশ কয়েকটি ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই সব ঘটনার দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক।
ভারতের সঙ্গে আমেরিকা প্রতিরক্ষাখাতে ১০ বছরের জন্য একটি চুক্তি সই করেছে। চুক্তি সই হয়েছে এমন একটা পরিস্থিতিতে যখন শুল্ক আরোপ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। চুক্তি সই হয়েছে কুয়ালামপুরে। ভারতের তরফ থেকে চুক্তিতে সই করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আমেরিকার তরফ থেকে চুক্তিতে সই করেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। চুক্তি সইয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এই চুক্তি ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা ও শক্তি দেবে। কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অনেক নতুন সুযোগ তৈরি করে দেবে। এই অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলকে নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং স্বাধীন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই চুক্তির সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ভারতের কাছে কোনও দেশ যদি হুমকি স্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারত তার মোকাবিলা করবে। এই চুক্তি তার সবুজ সংকেত। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গাবার্ট মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আমেরিকার শাসন পরিবর্তন বা জাতিগঠনের পূর্ব কৌশল শেষ হয়ে গিয়েছে।’ এর অর্থ বাইডেন প্রশাসনের মাধ্যম পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যে রেজিম চেঞ্জের ধারা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ, অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, বিনিময় বন্ধুর চেয়ে শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি, আইসিসির মতো ইসলামিক শক্তির উত্থান এবং অনিরাপদ পরিস্থিতির তৈরি করার যে নীতি একসময় আমেরিকা প্রথম পছন্দ ছিল, তা আপাতত ইতিহাস।
বাংলাদেশ পরিবর্তনের হাওয়া যে বইতে শুরু করেছে তার স্বপক্ষে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে। চিন-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারত বিশেষ মহড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য জারি করা হয়েছে নোটাম। এদিকে, আবার বছর ঘুরলে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনী আবহে ভারতীয় গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল গিয়েছিল ঢাকা। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান সহ সে দেশে বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। তাদের সফরের পরে পরেই বাংলাদেশ গিয়েছিল পাকিস্তান সেনার এক প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন পাক গুপ্তচর সংস্থার কয়েকজন।
এদিকে, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি বাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে আবার হাজির ছিলেন অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কিঞ্জারাপুর রামমহোন নাইডু। সেই বৈঠকের পরে পরেই কিন্তু চিন বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বিশেষ মহড়ার সিদ্ধান্ত নিল ভারত। এর জন্য জারি করা হয়েছে নোটাম। এদিকে, আবার পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতা আচমকাই বেড়ে গিয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম দাবি করেছেন, আগামী ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সু্প্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রাফাত আহমদে মঙ্গলবার ফুল কোর্ট ডেকেছেন। আমরা জানি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত সেই মামলার রায় কী দেয়, সে দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ। হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর আদালত জানাবে কবে তারা এই মামলার সাজা ঘোষণা করবে। ফলে, বাংলাদেশ জুড়ে চলছে পরিবর্তনের হাওয়া।












Discussion about this post