বাংলাদেশ ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠেছে সে দেশের জাতীয় রাজনীতি। কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হাসিনাপুত্র জয়ের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেই সাক্ষাৎকারে জয় জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের ভোটে সব রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তি জরুরী। সেই সঙ্গে দাবি করেন আওয়ামী লীগের ওপর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলেই হবে না। দল যাতে প্রচারের সুযোগ পায়, সেটা মাথায় রেখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। একই দিনে তিনটি পত্রিকায়। সেই সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে একাধিক ইস্যুতে মুখ খুলতে দেখা যায়। তার মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তিনি তাঁর অবস্থান তিনি স্পষ্ট করে দেন। জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ভোট হলে সেই ভোট বয়কট করা হবে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক মহল থেকে তদারকি সরকারের ওপরে চাপ তৈরি করা হচ্ছে যাতে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে ইউনূস সরকারকে একটি কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সব দল যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সেটা তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে তুলে নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা। দলের যে সব নেতাকর্মীকে যে অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, সেই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে। অন্যথায় তাদের মুক্তি দিতে হবে।
আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বিরুদ্ধেও। আবার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে পালটা মামলা দায়ের করেছে আওয়ামী লীগ। হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে. যেমন খুন, গুম-খুন, শারীরিক নির্যাতন, জেল বা থানায় পিটিয়ে হত্যা, – সে একই অভিযোগে ইউনূস, তাঁর সরকার, বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পালটা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হেগের ওই আদালত থেকে ইউনূসসহ যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি হলে তারা সেখানে যেতে বাধ্য।
এদিকে আবার বাংলাদেশের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি বলেছেন, জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে তারা (জাতিসঙ্ঘ) যে রিপোর্ট তৈরি করেছে সেটা একতরফা। প্রশ্ন তোলা হয়েছে রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে। জানতে চাওয়া হয়েছে ইউনূস সরকারের প্রতি তাঁরা কেন পক্ষপাতদুষ্ট। তারা যে রিপোর্ট তৈরি করেছে সেই রিপোর্টে কেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হিংস্রতার কথা নেই? জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে কেন উল্লেখ নেই সেই সময়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের কথা। প্রশ্ন করা হয়েছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইউএনডিপি কী করে অর্থ সাহায্যে করে। এই মর্মে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে আওয়ামী লীগের লেটারপ্যাডে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্টিফেন লিলারকে এই চিঠি পাঠিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
একটা বিষয় স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলে তাদের স্বচ্ছভাবমূর্তি তুলে ধরার একটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা এবং তাদের বন্ধুদেশের থেকে সহযোগিতা আদায়ের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post