সাধের জুলাই সনদ নিয়ে বেশ গালভরা কথা বলেছিলেন তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস। তিনি কী বলেছিলেন, এই সুযোগে সেটা আরও একবার দেখে নেওয়া যাক।
জুলাই সনদ সই হয়েছিল গত ১৭ অক্টোবর। সইয়ের দিন ইউনূসকে বলতে শোনা যায়, ‘এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা হল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পরিবর্তন হবে। এর মাধ্যমে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতা এসে পৌঁছালাম। আমরা এমন সভ্য হব যে মানুষ আমাদের দেখে ঈর্ষাণ্বিত হবে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের কারণে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে। এর জন্য গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। অনেক আলোচনা শেষে আমরা এটি করতে পারলাম। এটি আমাদের নতুন সূচনা।’ ড. ইউনূস আশাপ্রকাশ করে বলেন, ‘যে ঐক্যে জুলাই সনদ সই হল, এই সুরই দেশকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে।’ এর জন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। ঘটনা হল, তদারকি সরকার প্রধান জুলাই সনদ নিয়ে গর্ব করলেও সইয়ের দিন অনেকেই গড় হাজির ছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এই সনদ নিয়ে তারা যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন, সনদ প্রকাশের সঙ্গে সেই নোট অব ডিসেন্ট প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু তদারকি সরকার সেই নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই সনদ প্রকাশ করায় অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের আরও একটি দাবি ছিল, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করাতে হবে। এই নিয়েও আবার রাজনৈতিকদলগুলির মধ্যে চুড়ান্ত মতপার্থক্য তৈরি হয়। রাজনৈতিকদলগুলির মধ্যে এই মতপার্থক্য মিটিয়ে নিতে সোমবার, ৩ জুলাই। এই বৈঠক শেষ হতেই বিএনপি জরুরী বৈঠক ডাকে। দলের সভাপতি তারেক রহমান বৈঠকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে ও এর বিষয়বস্তু কি হবে, এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, সে জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে সভায় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদে ( সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূ়ড়ান্ত এবং এতে উল্লেখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিনের বৈঠকে সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা কোনও আল্টিমেটাম দিইনি। শুধু আহ্বান জানিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করব। এরপর সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে। ’ আসিফ নজরুল একটি বিষয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন। সেটি হল সরকারের তরফে এই নিয়ে আর কোনও আলোচনা হবে না বা সরকার গোল টেবিল বৈঠক ডাকবে না। যা করার এবার রাজনৈতিকদলগুলিকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তদারকি সরকার বা ঐকমত্য কমিশনকে তারা জানিয়ে দেবে। এর জন্য সরকারের তরফে তাদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
আইনি উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটের সময়সূচি ও বিষয়বস্তু নির্ধারণের জন্য সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর কোনও সময় নষ্টের সুযোগ নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post