প্রতিবেদন শুরু করার আগে এক আমলা, বর্তমানে মোদি সরকারের মন্ত্রী সুব্রমণ্যম জয়শঙ্করকে নিয়ে। মোদি সরকারের আমলে ছিলেন বিদেশ সচিব। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসেন। বিদেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেন। দিল্লির সাউথব্লকে আমলা মহলে তাঁকে নিয়ে আলোচনা হলেই উঠে আসে টেস্ট ম্যাচের প্রসঙ্গ। ভদ্রলোক ধীরে খেলতে ভালোবাসেন। মাঝে মধ্যে পিঞ্চ হিটারের মতো বল ওভার বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দেন। ইন্দিরা গান্ধির জমানায় প্রণব মুখোপাধ্যায় যেমন ছিলেন তাঁর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন, বর্তমানে মোদির সব থেকে আস্থাভাজন হলে এই জয়শঙ্কর। সে কারণে বিদেশ সচিব থেকে সরাসরি মোদি মন্ত্রিসভায়। তাঁর কাজে নমো এতটাই খুশি যে সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জয়শঙ্করের হাতে তুলে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রক। তাঁর কূটকৌশলে আমেরিকার মতো দেশ চাপে পড়ে গিয়েছে। কী করে আমেরিকাকে এতটা চাপে ফেলেছেন, সেটা নিয়েই এই প্রতিবেদন।
চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অতীতে কেমন ছিল তা আমাদের সকলের জানা। সর্বশেষ উদাহরণ গালোয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষ। কিন্তু সে সব এখন অতীতে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতে সম্পর্ক আগাগোড়াই ভালো। কিন্তু রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে কিয়েভের সঙ্গে দিল্লির একটা দূরত্ব তৈরি হয়। সেটাও এখন অতীত। দক্ষিণ এশিয়ায়র মধ্যে নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কার মতো ছোট রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন হার্দিক। সেই সম্পর্ক অতিরিক্ত সংযোজন আফগানিস্তান। কাবুলকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দিল্লি কার্যত গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সাউথব্লক বলছে, এই সব কিছুর পিছনে কাজ করেছে একজনের মাথা। তিনি এস জয়শঙ্কর। তাঁকে যখন বিদেশ মন্ত্রী পদে নিয়োগ করা হল, তখন আমেরিকার এক প্রাক্তন কূটনীতিবিদ ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বিদেশ সেরা দশের তালিকায় যদি কোনও বিদেশমন্ত্রীকে রাখা হয়, তাহলে তালিকায় প্রথম নাম থাকবে এস জয়শঙ্করের। বিদেশ সচিব থেকে তাঁকে বিদেশ মন্ত্রী পদে মোদির নিয়োগ অত্যন্ত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। আর সেই জয়শঙ্করে কূটনৈতিক চালে আমেরিকার মতো শক্তিধর রাষ্ট্র চাপে পড়ে গিয়েছে। ভারতের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সম্পর্ক কিন্তু আগের থেকে আরও ভালো। কোণঠাসা পাকিস্তান বিশেষ প্রয়োজনে সৌদি আরবের রাজপ্রাসাদে ফোন করেছিল। রাজপ্রাসাদ থেকে সে দেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা দেখতে চায় শান্ত দক্ষিণ এশিয়া। এ ক্ষেত্রে তাদের তরফ থেকে যা করার দরকার তারা সেটা যেন করে।
আমেরিকা যখন ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার বা়ডিয়ে দিল, সাউথব্লক থেকে তেমন কোনও গর্জন শোনা যায়নি। দিল্লি সিদ্ধান্ত নিল তেল কিনবে মস্কোর থেকে। পুরনো বন্ধুকে কাছে পেয়ে কিয়েভে ব্যারল প্রতি অশোধিত তেলের দাম এক ডলার কমিয়ে দিল। সেই সিদ্ধান্তে চটে যায় আমেরিকা। কিন্তু এই চড়া হাড়ে শুল্ক নিয়ে আমেরিকা ঘরের মধ্যেই প্রবল অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যায়। তাই, এখন মোদিকে কাছে টানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই চেষ্টার অঙ্গ হিসেবে তারা ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষাখাতে ১০ বছরের জন্য একটি চুক্তি সই করেছে, পরোক্ষে যা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অভিমুখ বদলে দিয়েছে। এর ফলে চাপে পড়েছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। সেটা বুঝতে পেরেছেন যেমন ইউনূস সরকার, বুঝে গিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আর এর নেপথ্য নায়ক এস জয়শঙ্কর।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post