বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন। এর মধ্যে ফের ঢাকার মসনদ দখল করতে মরিয়া শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। অবশ্যই সেটা নির্বাচনের মাধ্যমে। তার জন্য যা যা করার তাই করবে আওয়ামী লীগ। কেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও অর্থ সরবরাহ করে যাচ্ছে ইউনূসের প্রশাসনকে? বিশেষ করে নির্বাচনের জন্য? এদিকে কেন হঠাৎ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিলেন জেনারেল ওয়াকার? এদিকে যেমন ওয়াকার বাংলাদেশের সেনাকে প্রস্তুত থাকার কথা বলছেন, তেমন নির্বাচন ঠেকাতে আওয়ামী লীগের অক্লান্ত পরিশ্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যমুনাতে সেনাবাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে বৈঠক। জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি আওয়ামী লীগের। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে তোলপাড় পদ্মাপাড়। এদিকে আবার খবর, আইএসআই ঘাঁটি বাঁধতে চলেছে বাংলাদেশে। কি চলছে ওপার বাংলাতে?
আসলে জেগে উঠেছেন শেখ হাসিনা, ক্ষেপে উঠেছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। এতদিন দেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী অডিও বার্তার মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছিলেন দেশবাসী থেকে আওয়ামী সমর্থকদের। সম্প্রতি তিনটি আন্তজার্তিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, যদি আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হয়, তবে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। পাশাপাশি সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি জানিয়ে দেন, তার দলের সমর্থকদের অন্য দলে ভোট দেওয়ার কথা বলতে পারেন না। অর্থাৎ হাসিনার বক্তব্য, সমস্ত রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তবে যারা যারা অংশগ্রহণ করছে তাদেরও কোন বৈধতা থাকবে না।
বাইট-
ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছে শেখ হাসিনার দল। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছে শেখ হাসিনার দল। আওয়ামী লীগের সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মামিন এই চিঠি লিখেছেন। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয়, ২৩ বঙ্গবন্ধুর এভিনিউ ঢাকা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের সদর দফরের প্যাড ব্যবহার করে এই চিঠি লেখা হয়েছে। অর্থাৎ আবারও শেখ হাসিনার দল ঢাকার মসনদে ফেরার স্বপ্ন দেখছে। যে চিঠি জাতিসংঘের মহাসচিব কে দেওয়া হয়েছে, সেই চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট আন্দোলনে যে রিপোর্ট তৈরি করেছে জাতিসংঘ, সেই রিপোর্ট কেন একপেশে? কেন ইউনূস সরকার পক্ষপাতিত্ব করছে? ইউনূস সরকার কি এমন করেছে, যাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ? কেন জাতিসংঘ জানতে চাইছে না, যে ১৯ জনকে গুলি করা হয়েছে সেই গুলি কারা করেছে? জেলে কিভাবে ২৫ জন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল? কেন আওয়ামী লীগ কর্মীদের গ্রেফতারির তালিকা তৈরি করছে ইউনূস প্রশাসন? কেন আওয়ামী লীগের মিছিল আটকাতে এতটা তৎপর? এরকম একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এবং সেগুলি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব উত্তর দেবেন কিনা, সেটা প্রশ্নাতীত।
অন্যদিকে শনিবার যমুনাতে একটি বৈঠক করেন মোহাম্মদ ইউনূস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তিন বাহিনীর প্রধান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, নৌ বাহিনীর প্রধান মহম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান। বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কোনও ধরণের অশান্তি চাইছে না। এদিকে চলতি বছরের মে মাসে তিন বাহিনীর প্রধানকে শেষবার দেখা গিয়েছিল যমুনায়। তখন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ইউনূসকে বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আর তা না হলে বাহিনী কোনও সহযোগিতা করবে না। এমনকি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি চাপ দিচ্ছিল নির্বাচনের জন্য।
এরপর চাপে পড়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে ডেকে সাহায্য চেয়েছিল ইউনূস। এমনকি তিনি নাকি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বলে খবর। শুধু তাই নয়, এনসিপির নেতারা পায়ে ধরে কোনও রকমে সেই পদত্যাগ ওঠে। অন্যদিকে ইউনূস তখন লন্ডন চলে যান। ফিরে এসে তিনি বলেন, সংস্কার কাজ অনেক বাকি। নির্বাচন ডিসেম্বরের হওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচন হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার কথা বললেন জেনারেল ওয়াকার? তাহলে কি কিছু ঘটতে চলেছে বাংলাদেশে? যে কোন মুহূর্তে যা কিছু করতে পারে সেই আজ করেই বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন তিনি। এমনটাই সূত্র মারফত খবর। এরমধ্যে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই দপ্তর খুলতে চলেছে আইএসআই। এমনকি গোয়েন্দা সূত্র মারফত খবর, ইউনূস সেই অনুমতিও দিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে তবে পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর পূর্বে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এদিক আপনাদের মনে থা৪কবে, ভারতীয় গোয়েন্দা দল বাংলাদেশ সফরে যায়। তারা বাংলাদেশের বেশ কিছু বিমানঘাঁটি পরিদর্শনও করে। অনেকে বলছেন, প্রতিবেশী বেশে এমন কিছু ঘটলসে যেটা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, সেক্ষেত্রে হাত গুটিয়ে বসে নেই নয়া দিল্লি। এখন দেখার, শেষমেশ এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ করে ভারত।












Discussion about this post