গত বছর মে-তে বাংলাদেশ এসেছিলেন আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দফতরের রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড লু। তিনি চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় নানা রঙ্গ রসিকতা। অনেকে বলতে শুরু করেন, বাংলাদেশে এবার লু বইতে শুরু করেছে। ঘটনা হল জুলাই মাসে হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সব প্রশ্নের মধ্যে অন্যতম হল, এই গণঅভ্যুত্থান কি পুরোপুরি স্বতঃস্ফূর্ত? আন্দোলনের কারিগর শুধুই কি ছাত্র-জনতা, নাকি এর পিছনে ডিপ স্টেটের মদত ছিল? এখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ডিপ স্টেটের মদত ছিল। সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের একটি বক্তব্যে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের পুরনো রেজিম চেঞ্জ নীতি শেষ। অর্থাৎ অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের যুগ শেষ। আগামীদিনে আমেরিকা এই কাজ আর করবে না। এই রেজিম চেঞ্জের জন্য জলের মতো লক্ষ কোটি ডলার বেরিয়ে গিয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বন্ধুর পরিবর্তে শত্রুর সংখ্যা বেড়েছে। আইসিসের মতো ইসলামী সন্ত্রাসবাদী গোষ্টীর জন্ম হয়েছে। বেড়েছে উগ্রপন্থা। অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই, রেজিম চেঞ্জের বিদেশ নীতির ইতি টানা হচ্ছে। আমরা এটাই জানি যে আমেরিকার ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাট বা রিপাব্লিক যারাই আসীন হোক না কেন, তাদের বিদেশ নীতিতে খুব একটা রকমফের হয় না।
এটা শুধু স্বীকারোক্তি বললে ভুল হবে। এক নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি। আমেরিকা গোটা দুনিয়ার কাছে স্বীকার করে নিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক অতীতে যে ক্ষমতার কেন্দ্রে যে পালাবদল ঘটেছে তার পিছনে কাজ করেছে তারাই। কিন্তু আমেরিকা আর সেই নীতিতে ভর দিয়ে হাঁটতে চাইছে না। তারা চাইছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিক ফার্স্ট নীতি আঁকড়ে ধরে রাখতে। তবে রেজিম চেঞ্জ নয়।
আমাদের সকলের মনে আছে, দ্বিতীয় দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর কী বলেছিলেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, সবার আগে আমেরিকা, আমেরিকার মানুষ। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে তারাই সরিয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন হল, তুলসী গ্যাবার্ড যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোথায়? ট্রাম্পের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্মেন্ট এফিসিয়েন্সি ২৯ মিলিয়ন ডলারের যে প্রকল্প ছিল সেটা বাতিল করা হয়েছে। কারণ, এর সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িয় রয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকের কাছে মনে হয়েছেল বাঘের সঙ্গে সরাসরি ট্রাম্প লড়াইয়ে নেমে গেলেন। বাঘ মানে আমেরিকার সেই গোষ্ঠী যারা সব সময় চায় যে একটি দেশের সরকারের যেভাবে হোক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তাদের পছন্দের লোককে ক্ষমতায় আসীন করা। তবে কি মার্কিন বিদেশ নীতি সমূলে বদলে যেতে চলেছে? এরকমটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তবে বদলে যে যাচ্ছে, সেটা তুলসী গ্যাবার্ডের বক্তব্য স্পষ্ট।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে,জর্জ সোরেসের ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন’ বাংলাদেশে নির্বাচিত কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনকে অর্থসাহায্য করেছিল। বিএনপি, জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দলগুলিকেও ব্যবহার করা হয়েছে। এদের কাজ ছিল হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন সংগঠিত করা।












Discussion about this post