বাংলাদেশে নভেম্বর নিম্নচাপ। এই নিম্মচাপ রাজনৈতিক। সেনাবাহিনী বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও কর্মরত সেনাসদস্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। এই নিয়ে বাহিনীর মধ্যে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, সেনাপ্রধান ওয়াকার এবং তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের যোগসাজসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সূচিত হল।
এদিকে, হাসিনা সরকারের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেয় অভিবাসন দফতর। সূত্রের খবর, তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছিলেন। ইমিগ্রেশন সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার ব্যাঙ্কক যাওয়ার কথা ছিল। সূত্রের খবর, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হয়নি। যদিও প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, তিনি ভুল করে পুরোনা পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ‘মিলন’ নামটি না থাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। সেইদিন রাতে অবশ্য তিনি ব্যাঙ্ককের উদ্দেশ্য রওনা দেন।
তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি নিবাসে বৈঠক করেন তিন বাহিনীর প্রধান। এই বৈঠক একেবারেই পূর্বনির্ধারিত ছিল না। বৈঠক হয়েছে শনিবার। ছিলেন বাংলাদেশ স্থলসেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মামুদ খান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। পরে প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে এই বৈঠকের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনী সহ বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলায় রক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আসন্ন নির্বাচন যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে, সে জন্য তিন বাহিনীকে প্রয়োজনী নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিন বাহিনীর তরফ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে এই মর্মে আশ্বস্ত করা হয়েছে নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯০ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। নৌবাহিনীর তরফে থাকবে আড়াই হাজার সদস্য, বিমানবাহিনী থেকে মোতায়েন করা হবে দেড় হাজার সদস্যকে। প্রতিটি উপজেলায় এক কোম্পানি সেনা মোতায়েন থাকবে। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান তিন বাহিনীর প্রধান। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
এদিকে, জুলাই সনদ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশ জমা দেওয়ার পর থেকেই নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ ছয়টি ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর দিন বিএনপি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঐকমত্য কমিশনের তরফ থেকে দেওয়া সুপারিশকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখবে। দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা চাই সরকার অবিলম্বে সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে। নভেম্বরে গণভোটের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দিক।
তবে বাংলাদেশের আমআদমি কিন্তু আর এই অস্থিরতা চাইছে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post