তদারকি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিকমঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। এমনকী বাংলাদেশের বুকে ঘটে যাওয়া একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার জন্য তিনি ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। সাউথব্লক থেকে কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ করা হয়। তাতেও দমে যায়নি ঢাকা। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল গিয়েছিল ঢাকা। তারা সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তাঁর হাতে তুলে দেয় বেশ কিছু কাগজপত্র। স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়া ছবি। সেই সব ছবিতে ধরা পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে জঙ্গি শিবির। উত্তরপাড়াকে বলা হয়েছে তারা যেন দ্রুত ওই সব শিবির নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
ভারত সম্প্রতি স্যর ক্রিকে সেনামহড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মহড়া হবে দু দফায়। প্রথমে ৬ নভেম্বর এবং ২০ নভেম্বর। দ্বিতীয়ধাপের মহড়া হবে ডিসেম্বরে। ৪ এবং ১৮ ডিসেম্বর। শেষভাগের মহড়া আগামী বছর জানুয়ারিতে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই হবে সেনা মহড়া, পরে দুই সপ্তাহবাদে। সেনাসূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, এই মহড়ায় উত্তরপূর্বের এয়ারবেস এবং ফ্রন্টলাইন স্কোয়াড্রন অংশ নেবে। মহড়ার মূল উদ্দেশ্য সীমান্তজুড়ে বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা। পাশাপাশি হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেওয়া। ভারত এর আগেও মহড়া চালিয়েছে। কিন্তু এই বিশাল আকারে মহড়া প্রথমবার।
মহড়ার প্রস্তুতির মাঝেই এলো অন্যখবর। বাংলাদেশ লাগোয়া শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে ৬০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে নিল ভারতীয় সেনা। এর অর্থ, সাউথব্লক ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে বলা হয়েছে, এই ৬০ কিলোমিটার এলাকায় এমন বহু জমি আছে, যা নিয়ে নতুন করে তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে ভারতের ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। এর থেকে প্রায় ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে লালমনির হাট বায়ুসেনা ছাউনি। সূত্রের খবর, তদারকি সরকার প্রধান একাধিকবার চিনকে এই সেনা ছাউনিতে আসার জন্য আমন্ত্রণ করেছিলেন।
আসলে হাসিনা সরকারের পতনের পর সাউথব্লক কার্যত চুপচাপ বসেছিল। দেখতে চেয়েছিল দিল্লির ক্ষেত্রে ঢাকার অবস্থান কেমন হয়? যখন বুঝল, ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে ভারত-বিরোধী, তখন থেকে সাউথব্লক ঘুটি সাজাতে শুরু করে। যার ফলে তদারকি সরকার থেকে শুরু করে সরকার প্রধান ইউনূস, বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং বাংলাদেশের সব বিরোধীদল বেশ চাপে পড়ে যায়। এবার বাংলাদেশের মাটিতে সাউথব্লকের সশরীরে উপস্থিতি টের পাওয়া গেল। সর্বশেষ ঘটনা চিকেন নেক-য়ের কাছে ৬০ কিলোমিটার জায়গায় ভারতীয় সেনা তাদের দখলে নিয়েছে। ভারতীয় সেনার এই অভিযান তদারকি সরকার প্রধানের জন্য একটা বড় ধাক্কা। কিন্তু কেন?
শেষ পাঁচ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যখনই আমাদের সেনাবাহিনীর তরফে নেওয়া মহড়ায় অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ য়ের তিস্তা প্রহার মহড়া এবং চলতি বছরে যে মহড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই মহড়ায় বাংলাদেশ থাকছে না। সাউথব্লক থেকে ঢাকা এবং উত্তরপাড়াকে এই বার্তাই দেওয়া হল যে তাদের পাশে সাউথব্লক নেই। কারণ, সে দেশের সেনা এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা থেকে এটা প্রমাণ হয় ভারত তাদের টার্গেট।












Discussion about this post