সম্প্রতি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের একটি বক্তব্যে তোলপাড় হয়ে ওঠে বিশ্ব। গ্যাবার্ড বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষিতে আমেরিকাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল। ট্রাম্পের আমলে সেই সব কিছু শেষ। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন এই পালাবদলের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রাখে না। ট্রাম্প প্রশাসন সব দায় নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে পূর্বসূরী জো বাইডেনের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন। প্রশ্ন হল গ্যাবার্ডকে হঠাৎ এই নিয়ে মুখ খুলতে হল না। আসলে এর পিছনে কাজ করেছেন আমাদের জেমস বন্ড জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
নানা প্রান্ত থেকে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার সমালোচনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে ক্ষমতার পালাবদলের মূল হোতা সিআইএ। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম তাদের টার্গেট হয়ে ওঠে আফগানিস্তান। আমেরিকা সে দেশে তাদের সেনাবাহিনীকে পাঠিয়েছিল। তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধে বহু মার্কিন সেনার মৃত্যুর পর মার্কিন প্রশাসনের বিরদ্ধে সে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক তাদের ক্ষোভ উগড়ে দেয়। পরিস্থিতি একসময় থিতিয়ে গেলে মার্কিন সেনা দেশে ফেরে। তালিবান সে দেশের ক্ষমতায় আসীন হয়।
ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী নেপাল। বর্তমানে সে দেশ রয়েছে একটি তদারকি সরকারের অধীনে। নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি তদারকি সরকার প্রধান পদে আসীন হয়েছেন। তিনি অবশ্য ক্ষমতার রাশ হাতে নেওয়ার পর জানিয়ে দেন, আগামী ছ মাসের মধ্যে তিনি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। ডিপ স্টেটের নজর গিয়ে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। সে দেশের একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বসায় মুহম্মদ ইউনূসকে। যদিও তারা যে উদ্দেশ্যে ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল, তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। তাই, তারা এখন চাইছে ইউনূস যত তাড়াতাড়ি ক্ষমতা থেকে চলে যায়, ততই ভালো।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একটি হোটেল থেকে এক মার্কিন নাগরিকের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম টেরেন্স জ্যাকশন। এই ঘটনায় সে দেশে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। বাংলাদেশের সরকারিভাষ্যে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন নাগরিক ব্যবসার কাজে সে দেশে এসেছিল। যদিও ঢাকাস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে কয়েকজন দ্রুত ওই হোটেলে পৌঁছে যান। সেখান থেকে তাঁরা ওই মার্কিন নাগরিকের দেহ চোখের নিমেষে সরিয়ে ফেলেন। করা হয়নি ময়নাতদন্ত। প্রশ্ন উঠছে, কেন এভাবে দেহ সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? আর কেনই বা করা হল না ময়না তদন্ত? এটি স্বাভাবিক মৃত্য না অস্বাভাবিক মৃত্যু। অস্বাভাবিক মৃত্যু অর্থাৎ যদি তাঁকে খুন করা হয়ে থাকে, তাহলে কে খুন করল? সেই ঘটনার পরে পরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে মুখ খুলতে দেখা যায়। সেভেন সিস্টার্সের ওপর যখন আমেরিকার নজর পড়েছে তখন মুখ খোলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক তথ্য জানা যায় ডিপ স্টেটের নিশানায় ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে প্রাণে মারার জন্য ছক তৈরি করেছিল আমেরিকা। একটি দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া যাক। চিনের সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ছিলেন একটি গাড়িতে। সেই গাড়ির মালিক পুতিন। গাড়িতে তাঁরা ছিলেন ৪৫ মিনিট। আর ওই একই সময়ে বাংলাদেশের হোটেল থেকে উদ্ধার হয় টেরেন্স জ্যাকশনের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post