এক দশকের বেশি সময় দেশের বাইরে। মা খালেদা জিয়া অসুস্থ। পুত্র তারেক নিশ্চিত ছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার। তাই, কিছুদিন আগে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকে এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেছিলেন ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সিদ্ধান্ত দল ও জনগণের। ’তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে কি না। জবাবে খালেদা পুত্র বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমার নয়। এই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। ’ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, খালেদা জিয়া পুত্র আসলে এই বক্তব্য পেশ করে তাঁর দরটা একটু দেখে নিতে চেয়েছিলেন। কিছুদি আগের একটি খবরে শোনা গিয়েছিল, তারেক দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে স্বাগত জানাতে দলের তরফ থেকে এলাহী আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে সেগুলিও আসলে দর বাজিয়ে নেওয়ার একটা কৌশল। আর বিএনপি যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে দলে তারেকের গুরুত্ব তেমন নেই। তাছাড়া গুরুত্ব থাকলে তাঁর নামের আগে ভারপ্রাপ্ত শব্দটি অনেক আগেই সরিয়ে ফেলা হত। তারেক কিন্তু এখনও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দলের রাশ দুইজনের হাতে প্রথমজন জিয়া, দ্বিতীয়জন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর।
সোমবার বিএনপি তাদের প্রার্থীতালিক প্রকাশ করে। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনটি কেন্দ্র। তিন কেন্দ্র হল ফেনী ১, বগুড়া ৭ দিনাজপুর ৩ আসন থেকে। আর তাঁর পুত্র তারেককে দল প্রার্থী করেছে বগুড়া – ৬ আসন থেকে। সোমবার বিকেলে ঢাকার গুলশনে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ দল জরুরী বৈঠকে বসে। বৈঠক চলে কয়েক ঘণ্টা। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মোট আসন তিনশো। বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে ১০জন মহিলা প্রার্থী। খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে আর যে সব মহিলাদের বিএনপি টিকিট দিয়েছে তারা হলেন তাহসিনা রুশদীর (সিলেট ২ ), শামা ওয়াবেদ ইসলাম (ফরিদপুর ২), নায়াব ইউসুফ আহমেদ ( ফরিদপুর – ৩) আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ), সানসিল জেবরিন (শেরপুর ১), ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ( ঝালকাঠি – ২), সাবিরা সুলতানা (যশোর ২ ), সানজিদা ইসলাম ( ঢাকা ১৪), ফারজানা শারমিন (নাটোর ১)। প্রার্থীতালিকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় আসন্ন ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছেন ফজলুর রহমান। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে একটি বিষয় খালেদা লড়বেন তিনটি আসনে আর তাঁর পুত্র তারেক লড়বেন মাত্র একটি আসনে। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, আসন্ন ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি চাইছে যেভাবে হোক ক্ষমতায় আসীন হতে। তাই, বাংলাদেশের রাজনীতি বোঝে, বাংলাদেশের মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পারে, এমন একজনে সামনে রেখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। তারেককে সামনে রেখে সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া যে মানুষটা এক দশের বেশি সময় বাংলাদেশের বাইরে ছিল, তার পক্ষে সে দেশের রাজনীতি বোঝা সম্ভব নয়। খবরের কাগজ বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাঠ করে রাজনীতি বোঝা যায় না।












Discussion about this post