বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণ অভ্যুথানের ফলে ক্ষমতাচুত্য হওয়ার পর তৎকালীন সরকার প্রধান হয়েছেন বিশ্ব শান্তিতে নোবেল জয়ী ডক্টর মহম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর শেখ হাসিনা সহ তার ঘনিষ্ট ও ২৫ জন বর্তমান ও প্রাক্তন সেনাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাথে জেলে ভরা হয়েছে বহু আওয়ামী লিগ নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের। ইউনূস সরকারের তরফ থেকে হাসিনার দল আওয়ামীলীগ – কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাথে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আওয়ামীলীগের সকল কর্ম কান্ডকেও। বাংলাদেশে নির্বাচন হলেও সেখানে লড়াই করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। ফলে চাপে পড়েছে আওয়ামীলীগ সমর্থকরা। অর্থাৎ, আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে রাজনীতির ময়দান ছাড়ছেন নৌকো সমর্থকেরা। কিন্তু ময়দানের খবর বলছে অন্য কথা। ঢাকার রাজপথে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল। সেই ঝটিকা মিছিল এখন রূপান্তরিত হয়েছে বড় আকারের মিছিলে। আওয়ামীলীগের মিছিলে দেখা যাচ্ছে প্রবল জনসমাগম। আওয়ামীলীগের মিছিলে সমর্থন করছেন পথ চলতি মানুষেরাও। তারাও যোগ দিচ্ছেন এই মিছিল গুলিতে। এমনকি বাসে ভাড়া পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে না আওয়ামী লীগের কর্মী – সমর্থকদের থেকে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় দৈনিক গণমাধ্যম তাদের সামাজিক মাধ্যমে একটি লেখা পোস্ট করেছিলেন, সেই লেখাটিতে ছিল – আপনারা কী আওয়ামীলীগের পক্ষে না বিপক্ষে ? সেই পোস্টের মন্তব্যে দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষই আওয়ামীলীগের পক্ষে এবং আওয়ামীলীগকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে আন্তর্জতিক স্তর থেকেও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে ইউনূসের ওপর। স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে সকল দলকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে হবে। আওয়ামীলীগের ওপর থেকে তুলে নিতে হবে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা। শেখ হাসিনা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামীলীগ ছাড়া নির্বাচন হবে না। আওয়ামীলীগ ছাড়া নির্বাচন হলে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। নিবার্চনটিকে নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা হবে না। শেখ হাসিনার পুত্র জয় এ প্রেক্ষিতে বলেছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নিষেধাজ্ঞা বহু আগে থেকেই তুলতে হবে। নির্বাচনের মুখে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা তুললে সেইটা কোনও কাজে আসবে না। আওয়ামীলীগকে নির্বাচনের আগে প্রচারের সুযোগ করে দিতে হবে।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মাসুদ কামাল এক জার্মান সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন আওয়ামীলীগের আসার কথা। কামাল লিখেছেন, আওয়ামীলীগের এমন একটি সমর্থক বেস রয়েছে যারা আদর্শগতভাবে আওয়ামীলীগের কট্টর সমর্থক। কামাল আরও বলেন, কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে শুধুমাত্র অর্ডার দিয়ে নিষিদ্ধ করে দেওয়া খুব একটা ভালো নিদর্শন নয়। নতুন সরকাররে একটা ইউনিট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার এখন বিভাজনের কাজ করছে। ওই প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়েছে দুনিয়ার অন্তত ৬ মানবাধিকার সংগঠন মহম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন যেন আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। না করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বচ্ছতার উপরে প্রশ্ন উঠবে।
হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তার দলীয় নেতা – কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অডিও বার্তা দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। আর যা ঘিরে ইউনূসের মনে সৃষ্টি হয়েছে হাসিনার ও তার দলের ফেরত আসার ভয়। ইউনুস এ প্রসঙ্গে এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেছিলেন, হাসিনা যেন ভারতে বসে তার এই যোগাযোগ বন্ধ করে। এর প্রেক্ষিতে মোদী তার এই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপরেই ইউনুস হাসিনার যোগাযোগের একাধিক মাধ্যম বন্ধ করে দেন। এতকিছু করেও আটকে রাখা যায়নি হাসিনাকে। হাসিনা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যা দেখে ইউনুস স্পষ্টই বুঝে গেছেন হাসিনা আসবেই। হাসিনার আসা আটকানো যাবে না।












Discussion about this post