গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ ই অগাস্ট গণ অভুত্থানের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীত্ব পদ ছেড়ে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে। এরপর দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়ে আসেন বিশ্ব শান্তিতে নোবেল জয়ী ডক্টর মহম্মদ ইউনুস। ইউনুস সরকারের ক্ষমতায় আসার পর কেটে গেছে প্রায় ১৫ মাসের ও বেশকিছু সময়। এমত অবস্থায় অধিকার নামক একটি মানবাধিকার সংগঠন একটি তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। তা হল ২০২৪ থেকে জুলাই পর্যন্ত তথ্যে বিচার বহির্ভূত ভাবে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। তার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এছাড়াও গণ পিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ১৫৩ জনের। সাথে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন ২৮১ জন।
এই মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের মাথায় রয়েছেন আদিরুল রাহমান খান শুভ্র। এই আদিরুল রাহমান খান শুভ্র অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা। আদিরুল রাহমান খান শুভ্রর স্ত্রী ও নিকট আত্মীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের দেখাশোনা করেন। অধিকারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণ অভুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই দেশে নানান ধরণের অরাজকতার সৃষ্টি হয়। অধিকারের প্রকাশ করা তথ্যে বলা হয়েছে বাহিনীর করা গুলিতে ১৯ জনের হত্যা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোন বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হল ওই ১৯ জনের ?
বাংলাদেশে হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারে কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি বাংলাদেশের আইন – শৃঙ্খলা ভুলন্ঠিত হয়ে যাওয়ার পরেও বাহিনীকে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, বাংলাদেশে বাহিনী আর অস্ত্র ব্যবহারে কোনও অনুমতি পাবে না। শুধুমাত্র অস্ত্র থাকবে আর্মড ফোর্সদের কাছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, বাহিনীর যদি অস্ত্র চালানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকে এবং বাহিনীর কাছে অস্ত্র থেকে না থাকে তাহলে গুলি চালালো কে ? তাহলে কী বাহিনীর নাম অন্য কেউ গুলি চালিয়ে হত্যা করল ১৯ জনকে ? দায় চাপানো হচ্ছে বাহিনীর ওপর ? নাকি পিছন থেকে খেলাটা খেলছে অন্য কেউ ?
হাসিনার আমলে অভিযোগ উঠেছিল গুম, খুন ও আয়নাঘর কাণ্ডের। এই অপরাধে হাসিনা ঘনিষ্ট বেশ কিছুজনকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। মানবাধিকার অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তাদের বিচার প্রক্রিয়াও চলছে। কিন্তু হাসিনার আমলের পরেও মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। কে দেবে এই সকল মানুষের মৃত্যুর হিসেব ? আসলে আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলাদেশবাসীর কাছে ইউনূসের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছেন তার শিল্প উপদেষ্টা। একপ্রকার বাঁচাতে চাইছেন ইউনূসের পিঠ। হাসিনা বারংবার তার দেওয়া অডিও গুলিতে চরম হুঁশিয়ারি ও হুঙ্কার দেন ইউনূসের বিরুদ্ধে। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও রাজনৈতিক পেক্ষাপট বলে দিচ্ছে ইউনূসের জামানা শেষ হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চলছে হাসিনা ও তার দল আওয়ামীলীগ।












Discussion about this post