গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি সরগরম ‘জুলাই সনদ’ ঐক্যমত্য কমিশিন, প্রতারণা, নোট অব ডিসেন্ট, স্বাক্ষর ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে। সনদে স্বাক্ষর করা দলগুলো এবং স্বাক্ষর না-করা দলগুলো একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তর্ক জুড়ছেন। বিশ্লেষকদের কেউ বলছেন, ‘নির্বাচন ভণ্ডুল করতেই এসব করা হচ্ছে। আবার কারও বক্তব্য, তিন দলের কামড়াকামড়ি লোক দেখানো। ঠিক এই আবহেই গত শনিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল। শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, ওই বৈঠকে অন্যবিষয়ে হয়েছিল। আসলে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের জনগণকে মাদারির খেলা দেখাচ্ছে।
হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন, মাদারির খেলা দেখাচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। যার নেতৃত্বে মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি নিজে দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপে বসবাস করেন। মার্কিন ডিপ স্টেটের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছেন। সেই সঙ্গে একাধিক বিদেশী নাগরিককে ধরে এনে বাংলাদেশের উপদেষ্টামণ্ডলীতে স্থান দিয়েছেন। আর আরও অনেককে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের মাথায় বসিয়েছেন। তাঁরা বিগত দেড় বছরে যতো অন্যায়-অপরাধ, বেআইনী কার্যকলাপ, জেল-জুলুম, খুন-জখম, অর্থ লোপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাত্রাতিরিক্ত স্বজনপ্রীতি, প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে এখন সেফ এক্সিট খুঁজছেন। যেমন আলী রিয়াজ, জানা যাচ্ছে ঐক্যমত কমিশনের মাথায় বসা এই মার্কিন নাগরিক নাকি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে উঠে হাওয়া হয়ে গিয়েছেন। রবিবার রাতে কুয়েত এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। তাঁর বিদেশ সফর নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই নানা মন্তব্য করছেন আলী রিয়াজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছে ২৫টি রাজনৈতিক দল, তবে ঐক্যমত এখনও হয়নি।
আরও একটি ঘটনা নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে খুব চর্চা চলছে। সেটা হল, ৩ নভেম্বর একটি আন্তোনভ-১২৪ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় ১২ ঘন্টা এই বিমানবন্দরে অবস্থান করে কিছু মাল খালাস করেছে। এও জানা যাচ্ছে, বিমানটি আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে সরাসরি ঢাকায় আসে, তারপর হংকংয়ের উদ্দেশ্যে উড়ে যায়। অস্বাভাবিক বিষয় হল, ঢাকায় অবতরণের আগে বিমানটির কল সাইন আশ্চর্যজনকভাবে পাল্টে গিয়েছে। বিভিন্ন ফ্লাইট ট্রাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী An-124 বিমানটির কল সাইন UR-82027 ছিল। এটি ইউক্রেনীয় অ-সামরিক কার্গো বিমান। ঢাকায় অবতরণের পর বিমানটির ফ্লাইট নম্বর – ADB341F দেখা যায়। বিশ্বস্ত কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই কার্গো বিমানেই ইউক্রেনে মার্কিন সাহায্য হিসেবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। ঢাকায় এবার কি নিয়ে এল এই রহস্যজনক কার্গো বিমান। এই বিষয়ে বাংলাদেশের কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি। ফলে বলাই যায় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত মাদারির খেলা দেখাচ্ছে দেশবাসীকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post