বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছরের জুন মাসে লন্ডনে বহু চর্চিত সাক্ষাৎকার হয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। তার পরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটের কথা বলেছিলেন। পরবর্তী সময়ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না করলেও, ভোট যে ফেব্রুয়ারি মাসেই হবে, সেটা জানিয়ে আসছে। এই আবহেই খালেদা জিয়া, তারেক রহমান-সহ ২৩৭ জন প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করে দিল বিএনপি। উল্লেখ্য, গণভোটের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা’ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেধে দিয়েছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সেটা নিয়ে কোনও ঐক্যমত আসার আগেই জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলীয় তালিকা প্রকাশ করে দিল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি। আশ্চর্ষের বিষয়, এই তালিকায় নেই, বেশ কয়েকজন হেবিওয়েট নেতার নাম।
প্রসঙ্গত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একা তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটে অংশ নিতে চলেছেন একটি আসন থেকে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে ওই তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম। যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
গত ৩ নভেম্বর ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেখা যাচ্ছে, ওই ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় স্থান হয়নি বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও হেভিওয়েট নেতার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল এবং সদ্য মনোনীত যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীরের নাম নেই তালিকায়। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আমিনুর রশিদ ইয়াসিন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনও বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। অন্যদিকে, ঢাকা-১০ আসনে এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ও রবিউল ইসলাম রবির নামও এবার বাদ পড়েছে বিএনপির ঘোষিত তালিকা থেকে। আবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলেই খবর।
এই তালিকা প্রকাশ হতেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষেভ, প্রতিবাদ। জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁর অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছিল সোমবার রাতেই। এরকমই আরও ঘটনার খবর সামনে আসছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, এবারই শুরু হল আসল খেলা। বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন হোক। তাহলেই তাঁরা পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারবে। এই আশা থেকেই নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে বিএনপি। কিন্তু তাতেও তাঁদের বিতর্ক থামছে না। তবে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ এখনও দাবি করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে আদৌ ভোট হবে না বাংলাদেশে। এটা মুহাম্মদ ইউনূসের একটা রাজনৈতিক ভাঁওতা। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েই বিএনপি একটা আরও একটা বড় ভুল করে ফেলল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post