ভারতের অপারেশন সিঁদুরের জেরে পাকিস্তানী সেনার কি হাল হয়েছিল সেটা আর বলে দিতে হবে না। যদিও পাকিস্তান সরকার, সেনাবাহিনী এবং তাঁদের নতুন দোসর বাংলাদেশ সেটা মানতে নারাজ। গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে ভারতের হামলায় ব্যাপক খয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের। ভারতীয় সেনা ও অন্যান্য দেশি-বিদেশী এজেন্সিগুলিও নানান ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে অপারেশন সিঁদুরের সময় একাধিক পাক সামরিক ঘাঁটি ও জঙ্গিঘাঁটির। তাতেই বোঝা গিয়েছিল ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা। কিন্তু একমাত্র পাকিস্তান অস্বীকার করছে, তাঁদের দাবি তাঁরা নাকি যুদ্ধে জিতে গিয়েছে। আর মজার বিষয় হল, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির নিজেই নিজেকে ফিল্ড মার্শাল ঘোষণা করে দিয়েছেন। এবার যে তথ্য সামনে এল, সেটা আরও ভয়ানক। যা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকর। পাকিস্তানের সরকারি তথ্য বলছে, চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ১,১০০-এর বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এই হিসেব ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টবর মাস পর্যন্ত। বছর শেষ হলে এই পরিসংখ্যান কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, সেটা নিয়েই চিন্তায় পাক সেনাবাহিনী।
১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মুখ পুড়েছিল পাক সেনাবাহিনীর। সেবার তাঁদের বহু সেনাকর্মী ও আধিকারিকের যেমন মৃত্যু হয়েছিল, তেমনই আত্মসমর্পন করেছিলেন প্রায় ৯৩ হাজার পাক ফৌজ। পৃথিবীর যেকোনো যুদ্ধের ইতিহাসে এটা সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণের ঘটনা। সে বাড়ি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল পাক সেনার আত্মসমর্পণের পর। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে ১৯৭১ সালের ক্ষয়ক্ষতি কেউ ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৫ সালের মাত্র ১০ মাসের পরিসংখ্যান। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টেই দাবি করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ অশান্তি দমনে নিহত বিদ্রোহীদের থেকে ১.৬ গুণ বেশি পাক সেনা ও নিরাপত্তারক্ষীদের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ পাক সেনা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠার মুখে।
উল্লেখ্য, কাশ্মীরে হওয়া পহেলগাঁও হামলার জবাবে ২০২৫ সালের ৭ মে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসে ভারত চালায় মারাত্মক সেনা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’। তাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা ৯টি নিষিদ্ধ জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত। জবাবে ভারতের উপর হামলার চেষ্টা করলে প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় সেনা। তাতে বিপুল ক্ষতি হয়েছিল পাকিস্তানের। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের প্রত্যাঘাতের থেকেও বেশি অন্যান্য সমস্যাতেই সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে কেবলমাত্র বালুচিস্তানে ৩৫০টিরও বেশি বড় হামলা হয়েছে। যার পিছনে বালোচের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে তেহরিক-ই-লাব্বাইক-এর মতো গোষ্ঠীও। যারা কয়েকমাস আগেও পাক সেনাবাহিনীর পোষ্যপুত্র ছিল, কিন্তু আমেরিকা ও ইজরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে গাজায় শান্তি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে এই কট্টরপন্থী সংগঠন ক্ষেপে লাল। এখন তাঁরাই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। পাকিস্তানের ওই গোয়েন্দা রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভারতের “সিঁদুর” অভিযানের ফলে কমপক্ষে ৫০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা-জওয়ান নিহত হন এবং আহত হন ৩৫ জন।
তবে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি যে গোষ্ঠী আঘাত হানছে, তাঁরা হল টিটিপি বা তেহরিক-ই-তালিবানি। বলা হয়, আফগানিস্তানের ছায়া সংগঠন এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে। আসলে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জর্জরিত ইসলামাবাদ। শান্তি বজায় রাখতে ঘরে-বাইরে ল্যাজেগোবরে পাকিস্তানের শাহবাজ সরকার। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে বিএলএ, টিটিপি, টিপিএল নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিদ্রোহে জর্জরিত পাকিস্তান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছাড়াও, পাকিস্তান সেন জওয়ান-সহ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত ১৯৫ জন সেনা আধিকারিরক নিহত হয়েছেন। বাকিরা পুলিশ-সহ সেনা জওয়ান ও অন্যান্য নিরা্পত্তাবাহিনীর সদস্য। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১১০০ ছাড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে তালিবানি হামলায় বাড়িয়েছে শরিফ সরকারের অস্বস্তি। এরমধ্যে রয়েছে, টিটিপি, টিটিএলপি, বিএলএ ইত্যাদি।
গোয়েন্দাদের অনুমান, এই বছর শেষ হতে হতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ ছাড়াতে পারে। কিন্তু এর পরও পাকিস্তানের উচ্চাকাঙ্খা কমার লক্ষণ নেই। প্রায় ২৫ হাজার পাক সেনা গাজায় পাঠানো হচ্ছে। আর কিছু অংশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টায় আছে পাক জেনারেল আসিম মুনির। আর অবশিষ্টদের ভারত সীমান্তে মোতায়েন করা হচ্ছে। কিন্তু জেনারেল আসিম মুনিরও জানেন, বিষয়টা এত সহজ নয়। তাই বাংলাদেশকে ভরসা করছেন হয়তো।












Discussion about this post