লন্ডনে মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাংলাদেশে কবে ফিরবেন তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর ১৫ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তার দেশে ফেরা হল না? তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও বিএনপির তরফে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে, তারেক রহমান খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরছেন। এখানে বলে রাখা ভালো ২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দ্রুততার সঙ্গে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা প্রায় সকল মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এমনকি বাংলাদেশে গ্রেনেড হামলার মামলা-সহ আরও যেসব মামলায় সাজা হয়েছিল আদালতের রায়ে, তার সবগুলো থেকেই খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান। ফলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরার কোনও বাঁধা নেই, তবুও তিনি ঢাকায় আসার নাম নিচ্ছেন না। ফলে বিভিন্ন মহলে এটা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে এটা নিয়েই।
আইনি এবং রাজনৈতিক সকল বাধা দূর হলেও দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে থাকা তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, এ বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা পরিকল্পনা নেই বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও তিনিই যে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন, সেটা বলাই বাহুল্য। এমনকি আসন্ন নির্বাচন উপপক্ষ্যে বিএনপিই প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে একটি প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে তারেক রহমানের নাম। বাংলাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। তালিকা অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা খালেদার পুত্র তারেক রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বগুড়া-৬ আসনে। যদিও ডিসেম্বরের শুরুর দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমান কেন দেশে আসছেন না?
সূত্রের খবর, সেই ২০০৮ সালে এক কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তারেক রহমান। দাবি করা হচ্ছে, তিনি ভয় এবং কিছু ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতা থেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না। অনেকেই অনুমান করছেন যে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দেশে ফিরলেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ভঙ্গ হবে। যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। দাবি,
যে চুক্তিটি হয়েছিল মহম্মদ ইউনূস,জামাত, তারেক রহমান এবং ওয়াকার উজ জামানের মধ্যে। এই চুক্তিতে কার কি ভুমিকা এবং কার কি প্রাপ্তি তা নিশ্চিত করা আছে। জানা যাচ্ছে, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট এই মামলায় ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে ৯ বছর এবং ডা. জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। তারেক রহমানদের বিরুদ্ধে সেই সাজা বহাল ছিল কিন্তু তিনি সে সময় দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে যান। আর তিনি নাকি দেশ ছেড়েছিলেন একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করে। সেই সময় বাংলাদেশ সেনা কর্তারা তাঁকে দেশ ছাড়তে দিয়েছিলেন একটিই শর্তে, সেটা হল তারেক রহমান কখনই বাংলাদেশের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। এই মুচলেকাতে স্বাক্ষর করেই তারেক রহমান বাংলাদেশ ছেড়ে পালান। সেই সময়কার সেনাকর্তাদের মধ্যে একজন হলেন বর্তামানের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অনেকেই মনে করছেন, একটা আশঙ্কা থেকেই তারেক রহমান বাংলাদেশ ফিরছেন না, যদি দেশে ফিরলেই তাঁকে আটক করা হয় এই আশঙ্কায়।












Discussion about this post