বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে মার্কিন ডিপ স্টেটের একটা বড় ভূমিকা ছিল তা এখন অনেকেই জানেন। বিগত জো বাইডেন প্রশাসনের আমলেও মার্কিন ডিপ স্টেট মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে কয়েকটি নির্দিষ্ট এনজিও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বহু দেশের সরকার বদল করেছে। এরমধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর নিজেই ডিপ স্টেটের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন। তিনি তাঁর ঘনিষ্ট শিল্পপতি এলন মাস্কের তত্ত্বাবধানে একটি দফতর খোলেন এবং এই ডিপ স্টেটের যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়, ট্রাম্প নিজেই তাঁর মন্তব্য খণ্ডণ করেছিলেন। পরে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনে মার্কিন ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু তিনি যে ডিপ স্টেটের যাবতীয় বরাদ্দে কোপ মেরেছিলেন এটাও ঠিক। আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ব্যবস্থা গ্রহণের পরও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সক্রিয় ছিল এবং বাংলাদেশের সঙ্গে নানা সামরিক, বেসামরিক যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেদের কর্তৃত্ব জাহির করতে চাইছিলেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এতে হালে পানি পাচ্ছিলেন না। ঠিক এই আবহেই দেশে দেশে সরকার উৎখাত ও শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার পুরোনো নীতির দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।
বাইট – তুলসী গ্যাবার্ড
তুলসী গ্যাবার্ডের কথা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের এই পররাষ্ট্রনীতি তাঁদের বন্ধু নয়, বরং শত্রুর সংখ্যা বাড়িয়েছে। লক্ষ-কোটি ডলার গচ্চা গিয়েছে, অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে এবং ইসলামি জঙ্গিসংগঠন আইএসআইএসের উত্থানের মতো বড় নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই তুলসী গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন আমেরিকা সেই পররাষ্ট্রনীতি পরিত্যাগ করে শান্তির নীতি নিতে চাইছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশের জন্য একটা বিপদ সংকেত হতে চলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য তুলসীর এই মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায়। একদিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাকিস্তান-সহ কয়েকটি দেশ পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষার তোড়জোড় করছে। যে পাকিস্তানকে তিনি উঠতে-বসতে প্রশংশা করেন, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের প্রশংসা করতে তিনি কোনও জায়গাতেই পিছু হঠেন না। সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে এই কথা কেমন যেন উল্টো সুর বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী বলেন, ‘পুরোনো ওয়াশিংটনের চিন্তাধারা এমন কিছু, যা আমরা পেছনে ফেলে আসতে চাই। কারণ, এই দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদের বহুদিন ধরে পিছিয়ে রেখেছে। তুলসীর এই বয়ান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলল এটা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে বাংলাদেশের একটি ঘটনা এই বিষয়টিকে আরও উস্কে দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের বে-ওয়াচ হোটেলে ৪৪ সাবেক সেনা কর্মকর্তার গেট টুগেদার নিয়ে তোলপাড় পুরো দেশ! ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে তাঁরা কক্সবাজার যান এবং সেখানে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি পাঁচতারা হোটেলে ছিলেন। ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁরা কক্সবাজারে ছিলেন। ৪৪ সাবেক সেনা কর্মকর্তার গেট টুগেদার নিয়ে তোলপাড় পুরো দেশ! সেনাবাহিনী পরিচালিত হোটেল, আইএসপিআরের নীরবতা আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরের পেছনে কী রহস্য লুকিয়ে আছে? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এবার খেলা ঘুরতে চলেছে বাংলাদেশে। আর সেটা বুঝতে পেরেই সাবেক সেনাকর্তারা সেনাবাহিনীর বিমানে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবার পুরো কমান্ড নিয়ে নিয়েছেন। দিন দুয়েক আগেই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে যে বৈঠক করেছিলেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অনেকেই বলছেন, ওই বৈঠকেই তিনি ইউনূসকে বাস্তব মনে করিয়ে এসেছেন। সেই বাস্তব স্মরণ করিয়েছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।












Discussion about this post