ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত যে কত ভুল, সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের পাল্টা চালে ডন এখন ধরাশায়ী। দিল্লি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কোর থেকে অশোধিত তেল কেনার। শিপ ট্র্যাকিং সংস্থা Kpler and Olix-য়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ভারত রাশিয়ার থেকে দৈনিক প্রায় ১৪.৮ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছে। ঠিক তার আগের মাসে এর পরিমাণ ছিল ১৪.৪ লক্ষ ব্যারেল। ইউক্রেনের ওপর হামলার পরে পরে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা। পাশে পায় তাদের মিত্রদেশগুলিকে। এই অবস্থায় ভারত সমুদ্রপথে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার মতে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ভারত রাশিয়া থেকে গড়ে দৈনিক ১৯ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছে। যা রাশিয়ার মোট সমুদ্রবাহিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ। আমদানিতে যাতে ঘাটতি না থাকে, তার জন্য ভারত বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করে ফেলেছে। ম্যাঙ্গালুরু রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস কোম্পানি আবুধাবির মারবান ক্রুড থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনবে বলে চুক্তি করেছে। সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে একটি ভারতের অন্যতম একটি দৈনিকে দাবি করা হয়েছে, গত ৩৯ মাসে রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনায় ভারত ১২৬০ কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। এদিকে, দুই রুশ জ্বালানি সংস্থার ওপর আমেরিকা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই দুটি সংস্থা হল লুকঅয়েল এবং রসনেফ্ট। মার্কিন নিষেধ অনুযায়ী, আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে এই সংস্থাগুলির সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করতে হবে।তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৬০ ডলারে নেমে গেলেও, বিমা থেকে শুরু করে শিপিং এবং রিস্ক প্রিমিয়ামের মতো একাধিক খরচের কারণে, ভারত কম সুবিধা পায়। ২০২৩-২৪ সালে গড় ছাড় ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮.৫ ডলার। যা এখন কমে প্রতি ব্যারেলে মাত্র ৩ ডলারে এসেছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা ওএনজিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা রাশিয়ার থেকেই অশোধিত তেল কিনবে। সংস্থার সিইও অরুণ কুমার সিং গত অগাস্টেই তাঁর সংস্থার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সরকার যদি রুশ অপরিশোধিত তেল ক্রয় সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন না করে, তাহলে আমরা রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাব।’ ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার থেকে অশোধিত তেলের অন্যতম ক্রেতা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেল আমদানি আগের থেকে অনেকে বেড়েছে। এক ধাক্কায় আমদানির পরিমাণ ২ থেকে এক লাফে ৩৫ শতাংশ পৌঁছে যায়। তাতে আখেরে লাভ হয় ভারতে। আর সেটা সহ্য করতে পারছে না আমেরিকা – সহ পশ্চিম বিশ্বের দেশগুলি।
গত অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) রুশ-ভারত সার্বিক বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে পৌঁছেছে ৬৮০০ ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ভারত থেকে রাশিয়ায় রফতানি হওয়া পণ্যের অর্থমূল্য ৪৯০ কোটি ডলার। আর রাশিয়া থেকে এদেশে রফতানিকৃত পণ্যের অর্থমূল্য ৬৩০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় পাঁচ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা)।
এদিকে, ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস অ্যালিপভ জানিয়েছেন, ভারত আরও বেশি পরিমাণে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। এই রুশ রাষ্ট্রদূত একটি তথ্য তুলে ধরেন। ডেনিস অ্যালিপভ বলেন, ‘শুধু অক্টোবর মাসেই ভারত দৈনিক গড়ে ১.৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনেছে। এই পরিসংখ্যান আগামীদিনে বাড়তে পারে। আবার হয়তো কমে যেতে পারে। তবে কমলেও দৈনিক গড় ক্রয় মোটামুটি ১.৭৫ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি থাকবে তা ধরে নেওয়া যেতে পারে। ’












Discussion about this post