ভারত-বাংলাদেশ তপ্ত আবহে সুদূর ইউক্রেন থেকে এল দুঃসংবাদ।
ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সেনার হাতে বন্দি এক ভারতীয় পড়ুয়া। আটক ওই ভারতীয় পড়ুয়ার নাম মাজোতি সাহিল মাহমাদ হুসেন (২২) । তাঁর মা হাসিনাবেন সামসুদ্দিনবাই মাজোথি দিল্লি হাইকোর্টে একটা মামলা দায়ের করেছেন। বাড়ি গুজরাতের মোরবিতে। হাসিনাবেন দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার, ৩ নভেম্বর মামলার শুনানি চলে। শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শচীন দত্তের পর্যবেক্ষণ ‘তাকে রুশ সেনায় যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ’ কেন্দ্রের জন্য তাঁর বার্তা – ‘অনুগ্রহ করে ওই তরুণকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ করুন।’
বিচারপতি শচীন দত্তের এজলাস কেন্দ্রকে বলেছে, একজন লিয়াজোঁ নিয়োগ করতে, যাঁর দায়িত্ব হবে আটক পড়ুয়া সাহিল এবং ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা, যাতে সে কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায় (দূতাবাসীয় যোগাযোগ)। কনস্যুলার অ্যাক্সেসের অর্থ কোনও দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রদূতের দফতরের লোক যাতে আটকের সঙ্গে দেখা করতে পারে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, তারা ওই রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করছে। ইউক্রেন এখনও সরকারিভাবে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি (এই খবর লেখা পর্যন্ত)। তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর কিয়েভের ভারতীয় দূতাবাস তা খতিয়ে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
ঠিক কী হয়েছিল ২২ বছরের ওই তরুণের সঙ্গে? দিল্লি হাইকোর্টে সাহিলের মা হাসিনাবেনের দায়ের করা মামলা অনুসারে, সাহিল গত বছর উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ গিয়েছিল। ছিল স্টুডেন্ট ভিসা। ভর্তি হয়েছিল ইতমো বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবসর সময়ে সে একটি ক্যুরিয়ার কোম্পানিতে কাজ করত। মায়ের জোরাল দাবি, তাঁর ছেলেকে মিথ্যা ড্রাগের মামলা জড়িয়ে দেওয়া হয়। আদালত তাকে সাত বছরের কারাবাসের নির্দেশ দেয়। সেই কারাবাস এড়াতে সে রুশ সেনায় যোগ দিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে সে ইউক্রেন সেনার হেফাজতে রয়েছে। মা হাসিনাবেনের কথায়, তিনি এবং তাঁর বড় ছেলে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তারা চিঠিও পাঠায়। চিঠি পাঠায় ভারতীয় জনতা পার্টির সংখ্যালঘু সেলেরে জাতীয় সাধারণ সম্পাদককেও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
মস্কোর বিরুদ্ধে মাজোতির অভিযোগ, ১ অক্টোবর রুশ সেনার হয়ে যুদ্ধে পাঠানোর আগে সে মাত্র ১৬ দিনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিল। নিজের দলের কমান্ডারের সঙ্গে সংঘাতের জেরে মাজোতি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। মাজোতির কথায়, ‘আমি প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দূরে ইউক্রেন সেনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ওই অবস্থায় নিজের রাইফেল রেখে আত্মসমর্পণ করি। ’ ওই তরুণ আরো বলে, তাকে যে অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেই অর্থ তাকে দেওয়া হয়নি। তাই, সে রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে ইউক্রেন যেতেই পছন্দ করবে। মাজোতির আরও দাবি, মাদক সংক্রান্ত মামলায় তাকে প্রথমে রাশিয়ার জেলে ঢোকানো হয়। জেলের মধ্যে তাঁকে চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করায় রুশ সেনা। এও বলা হয়, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না গেলে তাঁকে আরও ভয়ঙ্কর শাস্তি পেতে হবে। তাই, একপ্রকার বাধ্য হয়ে তাঁকে রাশিয়ার হয়ে কাঁধে বন্দুক তুলে নিতে হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ডিসেম্বর। তরুণকে উদ্ধার করতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করেছে, তা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post