গোটা বিশ্ব সাক্ষী ছিল বাংলাদেশের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের। এক আন্দোলন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে তাঁর ক্ষমতা থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। নানা প্রান্ত থেকে শোনা যাচ্ছে, হাসিনাকে দেশে ফেরাতে দিল্লিতে তোরজোড় শুরু হয়েছে। হাসিনা এবং তাঁর দল যাতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, তার জন্য তদারকি সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আবার জাতীয় নাগরিক পার্টি যাতে ভোটে কোনওভাবেই অংশ নিতে না পারে, তার জন্য জামায়াত এবং বিএনপি থেকে তদারকি সরকারকে পালটা চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় সামনে এল এক ভয়ঙ্কর তথ্য।
হাসিনা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছিল- তাঁকে ক্ষমতা থেকে কে সরিয়ে দিল? ইশারা ছিল ডিপ স্টেটের দিকে। সেই ইশারা এখন আর শুধু ইশারা বা ইঙ্গিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সেটা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পরিণত করেছে একটি বই। বইটি লিখেছেন যৌথভাবে দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং হাসান খোকন। বইয়ের শিরোনাম – “ ইনশআল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রিভল্যুশন ”। বইয়ে রয়েছে হাসিনা সরকারের আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, হাসিনার উৎখাতের পিছনে হাত রয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের। আর তাঁকে পিছন থেকে মদত দিয়েছে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যে ওয়াকার উজ জামানকে হাসিনা সেনাপ্রধানের পদে নিয়োগ করেছিলেন, সেই ওয়াকারকে সিআইএ তাদের পকেটস্থ করে। আর ওয়াকার হাসিনাকে পিছন থেকে ছুরি মেরেছেন। কী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ?
আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেছেন, ‘এটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল। সিআইএ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে অনেকদিন ধরে একটা নীল নকশা তৈরি করেছিল। সেটা হয়েছিল এতটাই গোপনে যে আমরা যারা সেই সময় হাসিনার মন্ত্রী ছিলাম, তাঁরাও টের পায়নি যে জেনারেল ওয়াকারকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তাদের পকেটে পুরে নিয়েছে। ’ বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘দেশের গোয়েন্দা দফতর থেকেও হাসিনাকে সতর্ক করে বলা হয়নি যে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলা, তাঁকে পিছন থেকে ছুরি মারার একটা ছক তৈরি করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। ’
তাঁর মতে, এই নীলনকশা সেনাপ্রধান ছাড়াও ছিলেন বাহিনীর আরও কয়েকজন শীর্ষকর্তা, যাঁরা জেনারেল ওয়াকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন আমেরিকা বা সিআইয়ে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যূত করতে চেয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন আরও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম। তাঁরা হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিংপিং। আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় তিন দেশে প্রধানমন্ত্রী পদে এত শক্তপোক্ত লোক থাকবে, সেটা আমেরিকার একেবারেই না পসন্দ। কিন্তু মোদি এবং শিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার থেকে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া অনেক সহজ। কারণ, আমেরিকা জানে ভারত ও চিনের সেনাপ্রধানকে তারা কোনও টোপ দিতে পারবে না। আর দিলেও তারা সেই টোপ গিলবে না। তার থেকে সহজ বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে টোপ দেওয়া। এই সঙ্গে তিনি আরও একটি বিষয় যোগ করেন। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার সঙ্গে হাসিনার খটাখটির কারণ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ওয়াশিংটন এই দ্বীপটি তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য অতীতে হাসিনার ওপর একাধিকবার চাপ দিয়েছে। সেই চাপের কাছে হাসিনা নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করেন। তাই, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাতে পাওয়ার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে কাজে লাগায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post