বাংলাদেশে যত নির্বাচন এগিয়ে আসছে, ততই সহিংসতা চোখে পড়ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। এরমধ্যে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পরে বিএনপির মনোনিত এক প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হলেন। এবং তার সঙ্গে আর একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। চট্টগ্রামে ঘটা এই ঘটনা একদিকে যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে ঠিক একইভাবে নানা পক্ষ নানা কথা সামনে আসছে। সরকার এক ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এক ধরণের দাবি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আর এক ধরণের বক্তব্য আসছে। আবার রাজনৈতিক সংঘাত এবং দ্বন্দ্ব…এটা নিয়ে এনসিপি নেতারা তির্যক মন্তব্য করেছে বিএনপির দিকে। এই ঘটনা বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণ কিনা, সেটা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। যদিও এখন বিএনপি নেতারা অন্যভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে বলছেন, অর্ধেক সেনা তুলে নেওয়ার দিনে এমন অশান্তি।
চট্টগ্রাম ৮ আসনে বাবলা নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনা যখন ঘটেছে তখন পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। যখন এই ঘটনাকে অনেকে বলছেন, এটা রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ না। টার্গেট ছিলেন বাবলা। জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারকালে নগর বিএনপির আহবায়ক-সহ তিন জন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে পুলিশের যুক্তি, যারা গুলিবিদ্ধ করতে চেয়েছিল, তাদের টার্গেট সারোয়ার বাবলা ছিলেন। দুর্ঘটনাবসত এরশাদের গায়ে গুলি লাগে। এমনকি পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, সারোয়ার বাবলার অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। ১৫টা মামলা তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে খবর। এমনকি প্রশাসনের তরফে বলা হয়, এই গুলির ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা জেলে থেকে ইন্ধন দিয়েছে। এমনকি সিএনপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধ যেখানে হচ্ছে সেখানে আমরা অধিকাংশকেই গ্রেফতার করছি। কিন্তু আসামিরা ঘটনা ঘটানোর পরে রিমোট এরিয়ায় চলে যাচ্ছে। সেই কারণে তাদের গ্রেফতার করতে সমস্যা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এরশাদ উল্লাহর উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এমনকি তিনি এই মন্তব্য করেন যে, সরকারকে বেকার তাই ফেলতে এবং নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপি প্রার্থীকে গুলির ঘটনা। এখন প্রশ্ন হল, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কারা চায়? এদিকে আবার বিএনপির আরেক নেতা দাবি করেছেন, নির্বাচন বানচাল করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি তিনি বলেন, নিহত বাবলা বিএনপি’র কেউ নন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, গণসংযোগের নিহত ১৫ মামলার আসামি সরয়ার বিএনপির কেউ নন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাবলা সারয়ার বিএনপির কেউ না হয়ে থাকে, তবে তিনি বিএনপির গণসংযোগে কি করছিলেন?
এদিকে সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় সরকার তীব্রভাবে নিন্দা জানায়। এর পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।
মজার বিষয় হল, এই ঘটনার একদিন আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির নমিনেশনের পড়ে মন্তব্য করেন, দলীয় কোন্দলে গুলি খেতে না চাইলে এনসিপি করতে। তারপরই বিএনপির প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটল। অনেকে একে একে দুই করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি এনসিপি, বিএনপির অন্তদ্বন্দ্বের দিকেও ইঙ্গিত করছে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক, সেটা যে উত্তপ্ত হয়েছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নির্বাচন এগিয়ে আসতেই এই ধরণের ঘটনায় প্রমাণ করে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে চলেছে বাংলাদেশে।











Discussion about this post