প্রতিবেদন শুরু করা যাক জনপ্রিয় একটি লোকসঙ্গীত ধরে
‘সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী/ লাউয়ের আগা খাইলাম/ ডোগা গো খাইলাম/ লাউ দি বানাইলাম ডুগডুগি’।
বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূসের কাছে সেই সাধের লাউ হল ভারতের সেভেন সিস্টার্স। তিনি ভীষণভাবে চাইছেন ভারতের উত্তর-পূর্বের এই সাতটি রাজ্যকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তি করতে। সম্প্রতি পাক সেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনাকর্তা সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। তাঁকে তদারকি সরকারের তরফ থেকে একটি বই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। বইয়ের নাম ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’। বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা মানচিত্রে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত অনেকটা বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যে দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে। এই মানচিত্র যিনি তৈরি করেছেন, এটা যে সেই শিল্পীর অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া লালমনির হাট পরিদর্শন করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের শুরুতে কেন ওই লোকসঙ্গীতের উল্লেখ করা হল এবার তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ভারতের এই সেভেন সিস্টার্সের একটিতে সেনাবাহিনী গোপন অভিযান চালায়। অপারেশন চলে মঙ্গলবার, ভোরে। অপারেশনে নিষিদ্ধ কুকি জঙ্গিগোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি-(ইউকেএনএ) র ’ চার সদস্যের মৃত্যু হয়। অভিযান চলে চুরাচাঁদপুর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে খানপিতে। অভিযানের নাম রাখা হয় অপারেশন খানপি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে ভারতীয় সেনার কাছে খবর আসে খানপিতে আত্মগোপন করে রয়েছে ওই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজন। সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনা এবং অসম রাইফেলস যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন জঙ্গলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কুকি জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে মারা পরে চার কুকি জঙ্গি। তাদের থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই অভিযানের ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ‘নিউজ’ বর্তমান সেই সব ছবি এবং ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। সেনার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জঙ্গিদের থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক মিলেছ। অশান্তি ও উত্তেজনা দমনে এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কুকিজঙ্গি গোষ্ঠীর বাকি সদস্যদের খোঁজে সেনা এবং অসম পুলিশ চিরুণি তল্লাশি শুরু করেছে। তবে নিহত জঙ্গিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। সেনার তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এই চার জঙ্গিকে নিকেশ করার মধ্য দিয়ে এই বার্তা দেওয়া হল যে ভারতের উত্তর-পূর্বকে কোনও প্রান্ত থেকে অশান্ত করার চেষ্টা হলে কঠোর হাতে তার মোকাবিলা করা হবে। ’
ফিরে যাওয়া যাক মূল বিষয়ে। বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান এর আগেই এই সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তাকে বলতে শোনা যায় দক্ষিণ এশিয়া সমুদ্রপথে তারাই অভিভাবক। আর সেভেন সিস্টার্স নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তার একটা বাংলা তর্জমা তুলে ধরা যাক। ইউনূস সরকার বলেন, ‘ভারতে উত্তরপূর্বের সাতটি রাজ্যকে বলা হয় সেভেন সিস্টার্স। এই সাতটি রাজ্য ল্যান্ড লক। ওদের সমুদ্র নেই। আমাদের কাছে সমুদ্র আছে। এটা একটা বিশাল সুযোগ চিনের অর্থনীতির উন্নতির জন্য এটা একটা বড় দিক হতে পারে। নেপাল-ভুটানের অসীম হাইড্রো পাওয়ার আছে।’












Discussion about this post